২৫ মে, ১৯৭০ তারিখে ওয়েলসের মরিস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও কোচ। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘ক্রফ্টি’ ডাকনামে ভূষিত রবার্ট ক্রফ্ট ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। লেনেলিভিত্তিক সেন্ট জন লয়েড ক্যাথলিক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১১ বছর বয়সে রাগবি খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পরবর্তীতে, ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯ বছর বয়স থেকে গ্ল্যামারগনের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। ১৯৮৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
প্রথম খেলায় ৩০ ওভার বোলিং করেন। গ্রাহাম থর্পকে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। ১৯৯০ সালে গ্ল্যামারগনের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন ও ১৯৯২ সালে একই পুরস্কারের অধিকারী হন।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও ৫০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঘটনাবহুল এ খেলার দ্বিতীয় দিন নিজের ৪১তম বলে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। আমির সোহেলকে বিদেয় করে প্রাথমিক সফলতা পান। ঐ খেলায় ১২৫ রান খরচায় দুই উইকেট দখল করেছিলেন। খেলায় তিনি ২/১১৬ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫* ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। মুশতাক আহমেদের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। একই সফরে ২৯ আগস্ট তারিখে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
শুরুরদিকের সফলতা লাভের কারণে জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ড গমনার্থে ইংরেজ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা ৫/৯৫ পান। ঐ মৌসুমের শীতকালে ৩৪০ রান খরচায় ১৮ উইকেট পান।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৩৯। খেলায় তিনি ৩/১৯ লাভ করেন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে শূন্য রানে সায়মন ডৌলের শিকারে পরিণত হন। গ্রাহাম থর্পের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৮ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০১ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ আগস্ট, ২০০১ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২ ও ১/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শেন ওয়ার্নের সুন্দর বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টে ৩৭.২৪ ও ওডিআইয়ে ৩৮.৭৩ গড়ে উইকেট লাভ করেছিলেন। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। গ্ল্যামারগনের অধিনায়কের দায়িত্বে মনোনিবেশ ঘটানোকল্পেই তাঁর এ ঘোষণা ছিল। পরবর্তীতে, ২০১২ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান।
অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। স্কাই স্পোর্টে মাঝে-মধ্যে ধারাভাষ্যকর্মে যোগ দিতেন। দীর্ঘ ৩০ বছর গ্ল্যামারগনের সাথে যুক্ত ছিলেন। শুরুতে খেলোয়াড় ও পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেয়া হয়। দলের সকল বিভাগে দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে তাঁকে এ মূল্য দিতে হয়। এক পর্যায়ে ইংল্যান্ড দলের স্পিন বোলিং পরামর্শক হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়।
২০১৩ সালে ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই উপাধিতে ভূষিত হন।
