২৬ অক্টোবর, ১৯৭১ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের লেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘রেজি’ ডাকনামে ভূষিত রনি ইরানী ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। স্মিথিলস কম্প্রিহেনসিভ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। প্রাণবন্তঃ সিম বোলিং করতেন ও ব্যাটসম্যান হিসেবেও স্বীয় সক্ষমতার পরিচয় দিতেন।
১৯৯০ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। তবে, ১৯৯৪ সালে এসেক্সে চলে যান। দল পরিবর্তনের ফলেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের বাঁক ঘুরে যায়। এ দলটিতেই খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন। পরবর্তীতে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এসেক্সের পক্ষে কয়েক মৌসুম দূর্দান্ত খেলার ফলে ১৯৯৬ সালে ওডিআই দলে ঠাঁই পান।
১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ৩১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, ২০০৩ সালে হাঁটুর আঘাতের কারণে তাঁকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বোলিং করা থেকে বিরত থাকতে হয়। এরপর থেকে কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।
১৯৯৬ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ মে, ১৯৯৬ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মিন প্যাটেল ও অ্যালান মুলালী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ৩৪ রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ না পেলেও খেলা থেকে একটি উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। বল হাতে নিয়ে ১/২২ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তবে, ঐ খেলায় অংশগ্রহণের পরপরই দল থেকে বাদ পড়েন। ১৯৯৯ সালে আরও একবার টেস্ট দলে ঠাঁই পেলেও আবারও বোলিংয়ের সুযোগ পাননি। ঐ বছর নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০২ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে অংশ নেন। ত্রি-দেশীয় ঐ প্রতিযোগিতায় ১৬৯ রান ও ৮ উইকেট দখল করে ফ্যান্স প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ পুরস্কার লাভ করেন।
ক্রমাগত আঘাতের কারণে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। জুন, ২০০৭ সালে এসেক্সের পক্ষে চুক্তি নবায়ণ করেননি ও ২০০৭ মৌসুম শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এক পর্যায়ে এসেক্স ক্রিকেট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর, ৮ আগস্ট, ২০২১ তারিখে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয় ও ক্রিস সিলভারউডকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
