২০ মে, ১৯৪৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পিতা ল্যান্স মারে ত্রিনিদাদের সহঃঅধিনায়ক এবং কাকা পোর্ট অব স্পেনভিত্তিক কুইন্স পার্ক গ্রাউন্ড ও ক্লাবের সম্পাদক ছিলেন। কুইন্স রয়্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৮০-৮১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর অভিষেককালীন পড়াশুনো করতেন।

জুলাই, ১৯৬৬ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে যোগ দেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্লাবের ৪৪৫ নম্বর খেলোয়াড় ছিলেন। ঐ গ্রীষ্মের প্রথমার্ধ্বে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। টেস্ট সিরিজে সর্বাধিক ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড দাঁড় করালেও তাঁকে কাউন্টিতে ঐ অবস্থানে রাখা হয়নি। সারে ও ইংরেজ উইকেট-রক্ষক সুইটম্যানকে খেলানো হয়। তবে, নটস কর্তৃপক্ষ তাঁকে শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলায়। ঐ মৌসুমে তিনি কাউন্টির ব্যাটিংয়ে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। বার্ষিক প্রতিবেদনে তাঁর ব্যাটিং নটসের সাফল্যে বিরাট ভূমিকা রাখার কথা তুলে ধরা হয়।

১৯৬৩ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৬২ টেস্ট ও ২৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৩ সালে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ পর্যায়ে কেবলমাত্র দুইটি বড় ধরনের খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০ বছর বয়সে ৬ জুন, ১৯৬৩ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে জোই ক্যারিও’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়ে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এ সিরিজে ২৪টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে অসম্ভব দৃঢ়তার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। গ্লাভস কর্মে দূর্দান্ত সফলতার কারণে স্যার ফ্রাঙ্ক ওরেল তাঁকে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই খেলার সুযোগ দিয়েছিলেন। ব্যাট হাতে তেমন সফল না হলেও কিছু উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছিলেন।

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিজ দেশে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৩১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেনিস লিলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬৫ রানে জয় পেলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৭৯-৮০ মৌসুমে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১ উইকেটে নাটকীয়ভাবে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৮০ সালে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়ে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এছাড়াও, এক টেস্টে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কূটনীতিবিদ হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে আইসিসি ম্যাচ রেফারি হিসেবে তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলা পরিচালনা করেছেন। এক পর্যায়ে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০০৬ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ক্রিকেটের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ২০০৯ সালে আজিম বাসারথ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সম্পাদক ছিলেন। ত্রিনিদাদে বসবাস করছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট