|

নূরুল হাসান

২১ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে খুলনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘সোহান’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, ঢাকা বিভাগ, খুলনা বিভাগ ও সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, চিটাগং কিংস, মিনিস্টার রাজশাহী ও সিলেট সিক্সার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগ বনাম রংপুর বিভাগের খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান উইকেট-রক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্যে বেশ প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হয়। শুধুমাত্র নিজের দোষেই নয়; বরঞ্চ, ৩০ বছর ধরে খালেদ মাসুদ কিংবা মুশফিকুর রহিমের ন্যায় তারকা ক্রিকেটারদের স্ট্যাম্পের পিছনে একাধিপত্যবাদের কারণেই এমনটি ঘটেছে।

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে তিন বছর খেলেন। ২০১০ ও ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ২০১০ সালের আসরে প্লেট চ্যাম্পিয়নশীপের বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। পরের বছর অক্টোবর মাসে ঢাকা বিভাগের পক্ষে তাঁর অভিষেক হয়। এ পর্যায়ে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট-রক্ষণে দক্ষতার দিকে দিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে আরোহণ করেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে দূর্দান্ত খেলেন। জাতীয় ক্রিকেট লীগে দুইটি শতরান সহযোগে ৮১.৫০ গড়ে ৪৮৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ লাভে সমর্থ হন। এরপর, ঘরোয়া ক্রিকেটে খাঁটি খেলোয়াড়ে রূপান্তরে সচেষ্ট হন।

টি২০ খেলায় সিলেট সুপার স্টার্সের পক্ষে অভিষেকের পর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে একটি শতরান সহকারে পাঁচ শতাধিক রান তুলেন। এরফলে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। জানুয়ারি, ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০আই সিরিজে প্রথম খেলার সুযোগ পান। ১৫ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে খুলনায় সিরিজের তৃতীয় খেলায় শেষদিকে নেমে ১৭ বলে ৩০ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও, জিম্বাবুয়ে দল খেলায় জয় পায়।

এশিয়া কাপ ও বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দল নির্বাচকমণ্ডলী নবীনদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ডিসেম্বর, ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে মুশফিকুর রহিমের মাংসপেশীতে টান পড়ায় অনেকটা আকস্মিকভাবেই খেলার সুযোগ পান। ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে নেলসনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২০০৬ সালে মুশফিকুর রহিমের খেলোয়াড়ী জীবন শুরু হবার পর থেকে মাত্র পঞ্চম উইকেট-রক্ষক হিসেবে ওডিআইয়ে অংশ নিতে পেরেছিলেন।

একই কারণে ঐ সফরের ২০ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্ত’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৯ উইকেটে পরাজিত হয় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে টিম সাউদি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ০ রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিং করেন। তবে, ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় ও সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র করতে সমর্থ হয়েছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট