২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘অপি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোপলিসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। নিজেকে কখনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি ঘটাতে পারেননি। পিছন ও সামনের পা সামলে নিয়ে খেলায় অগ্রসর হতেন। এছাড়াও স্পিন বোলিং মোকাবেলায় তেমন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না।
১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৪ মে, ১৯৯৮ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
বাংলাদেশ দলের পক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের অধিকারী। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পূর্বে ২৫ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মনোমুগ্ধকর ১০১ রান তোলেন। এ কৃতিত্বের অধিকারী হবার নয় বছর পূর্বে তাঁর চাচা আজহার হোসেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, আরও দুইটি ওডিআইয়ে অর্ধ-শতরান তুলেছিলেন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মনোরম ৪২ রান তুলেছেন।
২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন সফররত ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শাহরিয়ার হোসেনের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। সচরাচর, ওডিআইয়ে প্রথম বল মোকাবেলা করার সুবাদে শাহরিয়ার হোসেনকে টেস্টের প্রথম বল মোকাবেলা করার সুযোগ দেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক ঘটা জহির খানের বলে উইকেটের পিছনে দণ্ডায়মান সাবা করিমের গ্লাভস বন্দী হলে বিদেয় নেন। ৪ ও ২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পায়।
তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোয় মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। কেবলমাত্র ২০০১ সালে হারারেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭১ রানের ইনিংসই সবিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিল।
২০০৩ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১ মে, ২০০৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মোহাম্মদ রফিকের অসাধারণ বোলিং শৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। একই সফরের ১৭ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ঢাকায় সর্বশেষ ওডিআই খেলেন।
টেস্টের সাথে তুলনান্তে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এছাড়াও, দূর্ভাগ্যজনক ঘটনার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডানের মধ্যকার খেলায় সাইফুল্লাহ জেমের করা পুল শটে রমন লাম্বা’র মাথায় আঘাত হানে। শর্ট-লেগ অঞ্চলে দণ্ডায়মান দিল্লির উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও আবাহনী ক্রীড়া চক্রের ক্রিকেটার রমন লাম্বা তখন হেলমেটবিহীন অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলটি থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাননি ও মাথা স্পর্শ করে উইকেট-রক্ষক খালেদ মাসুদের হাতে চলে যায়। ঐ মুহূর্তে বিদেয় নেয়ার পরিবর্তে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বিহ্বল হয়ে পড়েন ও তিনদিন পর রমন লাম্বা’র করুণ মৃত্যু ঘটে।
২০০৩ সালের শুরুরদিকে সর্বশেষ খেলাগুলোয় অংশ নেন। করপোরেট ক্রিকেট লীগে দল থেকে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবার অভিযোগে ১৯ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্যে ক্রিকেটে অংশগ্রহণের উপর বিসিবি কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হন। এরপর ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তবে, সবাইকে বিস্মিত করে ২০১১-১২ মৌসুমে ঢাকা মেট্রোপলিসের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
