১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯০৪ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গ্ল্যাডস্টোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো-মিডিয়াম অফ-স্পিন বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

সেন্ট পিটার্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। অফ-ব্রেক স্লো-মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বেশ নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলতেন। ১৯২৫-২৬ মৌসুম থেকে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। টিম ওয়াল ও ক্লেরি গ্রিমেটকে সাথে নিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতেন। টিম ওয়াল যেখানে নতুন বল নিয়ে রাজ্য দলের বোলিং আক্রমণে অংশ নিতেন; সেখানে তিনি ও ক্ল্যারি গ্রিমেট স্পিন বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ১৫৫৬ রান সংগ্রহসহ প্রায় ১৫০ উইকেট পেয়েছেন।

১৯৩০-৩১ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৫৭ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর একমাত্র শতরানে পরিণত হয়। এরফলে, সাউথ আফ্রিকা দল চিত্তাকর্ষক জয়লাভে সক্ষম হয়। ডন ব্র্যাডম্যানের সংগৃহীত ১১৭টি শতকের প্রথমটি তাঁর বল থেকে চার মেরে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন।

১৯৩১ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে নিজ দেশে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কোন রান সংগ্রহ করতে পারেননি ও নিচেরসারির একটি উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ইনিংস ও ১৫৫ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪৫৪ হলেও ৪০.২ ওভার বোলিং করে তিনি ৪/১১১ পান। ক্যাচ ধরতে না পারলেও ওয়ালি হ্যামন্ডকে ১০১, লারউডকে ৯৮, পেন্টারকে ৯ ও অ্যালেনকে ৪৮ রানে বিদেয় করেছিলেন। এরপর, আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ রান তুলেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫ রান তুললেও উডফুলের ৬৭ ও ব্র্যাডম্যানের ৭১ রান বাদে অপর কেহ দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ওয়ালি হ্যামন্ড তাঁর বল থেকে ছক্কা হাঁকিয়ে খেলায় আট উইকেট জয় এনে দেন। সফরকারীরা খুব সহজেই ৮ উইকেটে জয় পেলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের পাশাপাশি বেসবল ও ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। ৯ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার উডভিল এলাকায় ৭৫ বছর ৩২৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট