২২ জুলাই, ১৯৮৬ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৭ মিটার) উচ্চতা নিয়ে বেশ মারকুটে ভঙ্গীমায় ব্যাটিং করেন ও প্রশস্ত কাঁধের অধিকারী। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সুনিয়ন্ত্রিত পন্থা অবলম্বনে মিডিয়াম বোলিং করেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিংশৈলী দীর্ঘ সংস্করণেও অব্যাহত রাখেন। ২০০৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মনিকাল্যান্ড ও মিডল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জ্যামাইকা তল্লাজ, সেন্ট লুসিয়া জুকস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, নাগেনাহিরা নাগাস ও সাউদার্ন ব্রেভের পক্ষে খেলেছেন। ১১ অক্টোবর, ২০০৫ তারিখে হারারেতে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ বনাম কেনিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০০৬ সালে নিজ মাতৃভূমি জিম্বাবুয়ে ত্যাগ করে নিউজিল্যান্ডের দক্ষ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মনিকাল্যান্ডের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের যাত্রা শুরু করেন। এক পর্যায়ে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ও জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
২০০৬ সালে অকল্যান্ডে চলে আসেন ও স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে অকল্যান্ড এইসেসের পক্ষাবলম্বন করেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে দারুণ মৌসুম অতিবাহিত করেন ও স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ড এমার্জিং প্লেয়ার্স দলে ঠাঁই পান ও অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত চার-দেশীয় সিরিজ খেলার সুযোগ পান। ২০১১ সালের পর থেকে ছয় মৌসুম ঘরোয়া আসরে ছয় শতাধিক রান পেয়েছেন।
২০১৭ সালে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে ওয়ারউইকশায়ারে যোগ দেন। ন্যাটওয়েস্ট টি২০ প্রতিযোগিতায় দলের সফলতায় বিরাট ভূমিকা রাখেন। কোয়ার্টার-ফাইনালে অপরাজিত ৩৮ রান তুলে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন।
২০১২ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে শুরু করেন। খেলায় তিনি বোলিং করার সুযোগ পাননি। ব্যাট হাতে মাঠে নামলেও বল মোকাবেলার পূর্বেই খেলা শেষ হয়ে যায়। এক মাস পর ৩ মার্চ, ২০১২ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। ৩৬ বল মোকাবেলান্তে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এক ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেলেও ৯ রান খরচ করে ফেলেন।
ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিৎ রাভালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে খেলায় তিনি সাত উইকেট পান। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ছয়-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। এরফলে, অভিষেকে ৬৫ বছরের পুরনো নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড ভেঙ্গে পড়ে। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক টেস্টে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। খেলায় তিনি ৬/৪১ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৫ মার্চ, ২০১৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬২ ও ১/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৭ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে ২ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকিয়ে স্মরণীয় করে রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঐ খেলায় তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শের জন্যে মাত্র ৭১ বল খরচ করেছিলেন। এরফলে, নিউজিল্যান্ডীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম শতরান করার কৃতিত্বের অধিকারী হন। ঐ টেস্টে দলের একমাত্র ইনিংসে ১০৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ ও ২/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, নীল ওয়াগনারের অসাধারণ বোলিং দাপটে তাঁর দল ইনিংস ও ৬৭ রানের ব্যবধানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। তাসত্ত্বে, টেস্ট দলে নিজেকে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিতে পারেননি।
২০১৮-১৯ মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আবুধাবিতে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ২/৩০ ও ০/১৫ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ০ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এজাজ প্যাটেলের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে নিউজিল্যান্ড দল ৪ রানের নাটকীয় জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৯-২০ মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে দিবা-রাত্রির টেস্টে অংশ নেন। সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৭ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মিচেল স্টার্কের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৯৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২২ সালে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুন, ২০২২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪২* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৪ ও ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জো রুটের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
