|

ক্রিস ড্রাম

১০ জুন, ১৯৭৪ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

অকল্যান্ড দলের পক্ষে পেস বোলিং করতেন। তবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি। নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশ নেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক ঘটে তাঁর। তবে, সিরিজের তৃতীয় ওডিআই বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত ঘোষিত হলে বোলিং করার সুযোগ পাননি। তবে, জিওফ অ্যালটের আঘাতপ্রাপ্তি ও সায়মন ডৌলের নাম প্রত্যাহার করে নেয়ার কারণে পুণরায় তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলে ঠাঁই দেয়া হয়। দলে জায়গা করে নিতে জিওফ অ্যালট, অ্যান্ড্রু পেন, শেন ও’কনর ও ড্যারিল টাফি’র সাথে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল।

২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ২০০১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। টেস্ট অভিষেক পর্বটি দারুণভাবে শুরু করেছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে প্রথম বল থেকেই উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

এছাড়াও, ১৯৯৮ সালে কমনওয়েলথ গেমসের ব্রোঞ্জপদক বিজয়ী নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাঁকে সংরক্ষিত খেলোয়াড় হিসেবে দলে রাখা হয়। ইডেন পার্ক আউটার ওভালে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে গতির ঝড় তুলে খেলায় দশ উইকেটের সন্ধান পান।

২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ২০০২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বল হাতে নিয়ে ৩/৩৬ ও ২/১৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ২* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রাহাম থর্পের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৯৮ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩০ মার্চ, ২০০২ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৪৫ ও ৩/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ড্যারিল টাফির অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাজিত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অনেকটা বেশ আগেভাগেই মাত্র ২৭ বছর বয়সে খেলার জগৎ থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

সম্পৃক্ত পোস্ট