১২ জুন, ১৮৬১ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের কিওর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন।
দলীয় সঙ্গীদের কাছে ‘ডিক’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। নটিংহামের সাত মাইল দূরবর্তী গ্রামে তাঁর জন্ম। ১৬ বছর বয়সে পেশাদারী পর্যায়ে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহাম কমার্শিয়াল সিসি’র সাথে যুক্ত হন। এ পর্যায়ে তাঁর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ধরা পড়ে। এর চার বছর পূর্বে কীওয়ার্থ স্কুল বনাম প্লামট্রি স্কুলের মধ্যকার খেলায় হ্যাট্রিক করেছিলেন। ১৮৭৮ থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত তিন মৌসুম ক্লাবটির পক্ষে খেলেন। শেষ মৌসুমে নটিংহ্যামশায়ার কোল্টস দ্বাবিংশতিতম দলে ও ১৮৮১ সালে পুণরায় যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৮৮১ সালে কোল্টস দ্বা-বিংশতিতম দলের সদস্যরূপে লর্ডসে এমসিসি’র বিপক্ষে খেলেছিলেন।
১৮৮১ থেকে ১৮৯৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮০-এর দশকের শুরুরদিকে নটিংহ্যামশায়ারের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকের কাছেই নটস কাউন্টি একাদশে আলফ্রেড শ’য়ের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে চিত্রিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর নটিংহ্যামশায়ারের ক্রিকেটের ইতিহাসে বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৮৮৬ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত এক মৌসুম বাদে প্রত্যেকটিতে দলের সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। দলীয় সঙ্গীদের প্রত্যেকের তুলনায় সবচেয়ে কম রান খরচ করতেন।
১৮৮৪ থেকে ১৮৯২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জনি ব্রিগস, জো হান্টার, ববি পিল ও উইল্ফ ফ্লাওয়ারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/৪৮ ও ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২১ মার্চ, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। রাবার নিষ্পত্তির খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে তিনি জন ট্রাম্বলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৮ ও ৩/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৮ রানে জয় পেলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
অনেক খেলোয়াড়ই অ্যাশেজ সিরিজের টেস্টে প্রথম বলে বিদেয় নিয়েছেন। তবে, দূর্ভাগ্যবশতঃ ১৮৯২ সালের সিডনি টেস্টের উভয় ইনিংসের প্রথম বলে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়েছিলেন। পরবর্তীতে, ২০১০ সালের অ্যাডিলেড টেস্টে অস্ট্রেলীয় রায়ান হ্যারিস তাঁর সাথে যুক্ত হন।
১৮৯১-৯২ মৌসুমে ডব্লিউ. জি. গ্রেসের নেতৃত্বাধীন লর্ড শেফিল্ড একাদশ দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৪ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৩০ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রথম-শ্রেণীর আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। সব মিলিয়ে পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছিলন। এরপর, শ্রিউসবারি স্কুলে পেশাদারী পর্যায়ে কাজ করেন ও সেখানে তরুণ নেভিল কারডাস তাঁর সহকারী ছিলেন। তাঁর ভ্রাতা থমাস নটিংহ্যামশায়ারে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে খেলেছেন। ১১ জুন, ১৯২৭ তারিখে ডার্বিশায়ারের লং ইটন এলাকায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর নিজস্ব ৬৬তম জন্মদিন উদযাপনের একদিন পূর্বে ৬৫ বছর ৩৬৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
