|

অ্যালেস্টার মারগেদে

৫ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলেছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

শৈশবকাল থেকেই অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট ছিলেন। ২০০০ সালে জিম্বাবুয়ের সিএফএক্স একাডেমির প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণার্থীদের অন্যতম ছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে বড়দের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, টাটেন্ডা তাইবু, ব্রেন্ডন টেলর, চার্লস কভেন্ট্রিরেজিস চাকাভা’র ন্যায় খেলোয়াড়দের সাথে উইকেট-রক্ষণের জন্যে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। হারারের শহরতলী হাইফিল্ডে টাটেন্ডা তাইবু’র চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন ও সেখানেই শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। জেডসিইউ বৃত্তি লাভ করে চার্চিল হাই স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলেছেন। ষোড়শ জন্মদিনের অল্প কিছুদিন পরই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। একাডেমিতে যুক্ত হবার পূর্বে দুইবার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ হয়। প্রথম চার খেলায় ৪১ গড়ে রান তুলেন। তন্মধ্যে, ম্যাশোনাল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৯ ও মিডল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর থেকে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ও বোর্ড একাদশের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতেন।

২০০৩ থেকে ২০০৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ১১টি ওডিআইয়ে অংশ নেন। উভয় টেস্টই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ৩০ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত ওডিআইটিতে পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এরপর, ২০০৪ সালে বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের কারণে সৃষ্ট সঙ্কট দূরীকরণের পূর্ব পর্যন্ত আর খেলার জন্যে বিবেচিত হননি।

২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের মুখোমুখি হন। ৬ মে, ২০০৪ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে এল্টন চিগুম্বুরা, প্রসপার উতসেয়া, ব্রেন্ডন টেলর ও টিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে তেমন সফলতা পাননি। এরপর ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২২ রান তুলে পুরোপুরি অভিজ্ঞতাবিহীন অবস্থায় জিম্বাবুয়ে দলের ইনিংস ও ২৪০ রানের পরাজয় পর্যবেক্ষণ করেন। একই সফরের ১৪ মে, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন।

তারপরও কিছু সময়ের জন্যে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে ছিলেন। ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ও জিম্বাবুয়ে প্রভিন্সেসের পক্ষে খেলেছেন। তবে, তাঁকে বাদ রেখে ৩০-সদস্যের প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এছাড়াও, অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলরের উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার ফলে তাঁকে আর খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ঠিকই সর্বাপেক্ষা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট