২১ অক্টোবর, ১৯৮৫ তারিখে মারোন্দেরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘাকায় গড়নের অধিকারী ডানহাতি মিডিয়াম পেসার। নিজের উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে উইকেটে বেশ প্রভাব ও বাউন্স আনয়ণে সক্ষম ছিলেন। নতুন বল হাতে নিয়ে সুইং, সিম আনয়ণে প্রাচীন ধাঁচের খেলাকে সামনে নিয়ে আসেন। উইকেট লাভের পর বেশ উৎফুল্ল ও প্রচণ্ড উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। ২০০৩-০৪ মৌসুমে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনায় নিজেকে সর্বসমক্ষে হাজির করেন। ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬/৩১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করান।
হারারের ৪৫ মাইল দূরবর্তী দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ম্যারোনদেরায় শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। স্থানীয় গডফ্রে হাগিন্স প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রিকেট খেলা শিখতে আরম্ভ করেন। হারারেভিত্তিক চার্চিল হাই স্কুলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। কিশোর বয়সে নিচেরসারির অত্যন্ত কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে টাকাশিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাবে খেলার সুযোগ লাভ করেন। ও-লেভেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বেই প্রথম একাদশে খেলেন। কিছু সময় ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন ও সর্বদাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে দর্শনীয় খেলা উপহার দিতে না পারলেও মাঝে-মধ্যেই জিম্বাবুয়ে দলের নিচেরসারিতে ভাঙ্গন রোধে তৎপরতা দেখান। ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মনিকাল্যান্ড, মাউন্টেনিয়ার্স ও সাউদার্ন রক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১২ মার্চ, ২০০৪ তারিখে ফতুল্লায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ বনাম জিম্বাবুয়ে এ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের শুভসূচনা ঘটান।
২০০৪ থেকে ২০১৬ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট, ৬৫টি ওডিআই ও ১৪টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৪ সালে ১৫জন নিয়মিত খেলোয়াড়ের একযোগে খেলতে অস্বীকৃতিজ্ঞাপনের কারণে আকস্মিকভাবে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। প্রথমসারির খেলোয়াড় হিসেবে জিম্বাবুয়ে দলে যুক্ত হন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ফলশ্রুতিতে, ৬ মে, ২০০৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অ্যালেস্টার মারেগেদে, এল্টন চিগুম্বুরা, প্রসপার উতসেয়া ও ব্রেন্ডন টেলরের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সনথ জয়সুরিয়া’র বিপক্ষে বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। এ পর্যায়ে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ ও এ-লেভেলে অধ্যয়ন করছিলেন। ৪৫ ও ০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি ৫৫ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ইনিংস ও ২৪০ রানের ব্যবধানে তাঁর দল পরাভূত হয়েছিল। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
জাতীয় দলে প্রবেশের এক বছরের মধ্যেই ২০০৫ সালের শুরুতে পিঠের আঘাতের কবলে পড়ে এক বছরের অধিক সময় প্রতিযোগিতাধর্মী ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তবে, আরোগ্য লাভের পরপরই জাতীয় দলে ফিরে আসেন। ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে জিম্বাবুয়ে ত্যাগ করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্যাভেলিয়ার্সের সদস্যরূপে উদ্বোধনী বোলার হিসেবে নিজেকে ঝালাই করে নেন। এ ক্লাবের সদস্যরূপে নটিংহ্যামশায়ার প্রিমিয়ার লীগে অংশ নেন। কিছুটা ধীরগতিতে বোলিং করলেও ইংরেজ পরিবেশে তাঁর বল বেশ সুইংবান্ধব ছিল। বলকে ক্রমাগত বাঁক খাওয়াতে সচেষ্ট হন।
২০১০ সালে জিম্বাবুয়ে ফিরে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে, আগস্ট, ২০১১ সালে স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে জিম্বাবুয়ে দল বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসলেও দীর্ঘ সংস্করণের খেলার জন্যে মনোনীত হননি। অতঃপর ২০১৩ সালে এ স্তরের ক্রিকেটে বোলিং করার সুযোগ পান। সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সালে দুই-খেলার সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন। নয় উইকেট নিয়ে সবিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন ও দলের ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। এরপর থেকে পরবর্তী মৌসুমগুলোয় দলে আরও নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান।
১১ মে, ২০১৩ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে। মার্চ, ২০১৪ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ের খেলায় অংশ নেন। ৪/৩৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।
দলীয় সঙ্গীদের মাঝে মিচেল জনসনের অ্যাশেজ সিরিজের ভিডিওচিত্র বিতরণ করায় জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট থেকে বহিষ্কৃত হন। এছাড়াও, $১,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা আরোপের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে ঘিরে ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা হয়। তবে, এর পরপরই দ্রুতলয়ে বাংলাদেশ গমনার্থে দলে ফিরে আসেন। এ সফরে নিজেকে বেশ ভালোভাবে মেলে ধরেন। টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এ সিরিজ শেষে ১৪ উইকেট দখল করেছিলেন।
২০১৪-১৫ মৌসুমে ব্রেন্ডন টেলরের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ সফরে যান। ১২ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/৭০ ও ২/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ১৮৬ রানে জয় তুলে নেয় ও ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় টেন্ডাই চাতারা’র সাথে বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। ৩ জুন, ২০১৬ তারিখে পিঠের আঘাতের কারণে তাঁকে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে বাদ দেয়া হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য করা হয়।
