| |

জর্জ ডাকওয়ার্থ

৯ মে, ১৯০১ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়ারিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দুইটি বিশ্বযুদ্ধ মধ্যবর্তী সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। শারীরিকভাবে বড়সড় গড়নের অধিকারী ছিলেন না। তবে, মানসিকভাবে শক্ত মজবুত ছিলেন ও কণ্ঠস্বর বিরাটভাবে প্রতিফলিত হতো। দুইটি বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে ক্রিকেটের নিজের বিচ্ছুরণ ঘটান। দক্ষতার বিচারে অবিসংবাদিত উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পেয়েছেন। সন্দেহাতীতভাবে নিজের সময়কালে সেরাদের কাতারে ছিলেন। বেশ দক্ষতা ও একান্ত নিষ্ঠার সাথে স্ট্যাম্পের পিছনে সরব ছিলেন। গ্লাভসকর্ম অপূর্ব শিল্পসত্তার পরিচায়ক ছিল। ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূরি নিয়ে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। দলের সঙ্কটকালীন অধিকাংশ কার্যকর ব্যাটিং করেছেন। এ ইনিংসগুলো খেলতে মানসিকভাবে বেশ উজ্জ্বীবিত ভঙ্গীয় অগ্রসর হয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯২৩ থেকে ১৯৪৭ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ছিলেন। তাসত্ত্বেও, বড় ধরনের মন নিয়ে সর্বদাই সরব ছিলেন। ‘আউজেট’ উচ্চারণের ক্ষেত্রে শব্দের কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি করে একাকীই আবেদন জানানোর ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। খুব সম্ভবতঃ ল্যাঙ্কাশায়ারের শ্রেষ্ঠ উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পেয়েছেন। দুই বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের পাঁচটি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন।

১৯২৪ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ১৯২৪ সালে নিজ দেশে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ১৯২৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। জর্জ গিয়ারি ও জ্যাক ম্যাকব্রায়ানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, প্রথম দিন পৌণে তিন ঘণ্টায় সফরকারীদের সংগ্রহ ১১৬/৪ হবার পর বাদ-বাকী সময় বৃষ্টির কবলে পড়ে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৮-২৯ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৩০ নভেম্বর, ১৯২৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৬৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাস্ত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। জ্যাক হোয়াইটের স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ১২ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৮ মার্চ, ১৯২৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১২ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পেলেও তিনটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩২ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৩০-৩১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০* ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সফরকারীরা ২৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩২-৩৩ মৌসুমে এমসিসি দলের সদস্যরূপে অরন্টেস জাহাজযোগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন। এ মৌসুমে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৩১ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ‘ওয়ালি হ্যামন্ডের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৩৫ সালে নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি স্ট্যাম্পিং ও একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। ৯ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অবসর গ্রহণের পর প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সন্ধানে থাকতেন ও খেলোয়াড়-ব্যবস্থাপকের সম্পর্ক গাঢ়তর করেন। তিনবার কমনওয়েলথ দলের ভারত সফরে দলীয় ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের অনেকগুলো বিদেশ সফরে মালামাল সংরক্ষক ও স্কোরার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। বেশ মিশুক প্রকৃতির অধিকারী ছিলেন ও রঙ্গ-তামাশায় নিজের উপস্থিতি জানান দিতেন। এছাড়াও, টেলিভিশন এবং বেতারে ক্রিকেট ও রাগবি লীগের ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

৫ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়ারিংটন এলাকায় ৬৪ বছর ২৪১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট