|

রিচমন্ড মুতুম্বামি

১১ জুন, ১৯৮৯ তারিখে মাসভিঙ্গো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

হাল্কা-পাতলা গড়নের অধিকারী। মাঝারিসারিতে আক্রমণাত্মক ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রালস, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স, মাউন্টেনিয়ার্স, সাউদার্ন রক্স, সাউদার্নস ও ওয়েস্টার্নসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কাবুল ঈগলস, মাসভিঙ্গো, সাউদার্ন লায়ন্স ও সুইফট গ্যালোপার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ বছর বয়সে সাউদার্নসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৯ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে মুতারেতে অনুষ্ঠিত ইস্টার্নস বনাম সাউদার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম কয়েক মৌসুম হিমশিম খান।

পরবর্তীতে, বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত সাউদার্ন রক্সের সদস্যরূপে নিয়মিতভাবে খেলেন ও বিরাট উত্তরণ ঘটান। ২০১০-১১ মৌসুমে ৩০-ঊর্ধ্ব গড়ে রান তুলেন। পরের দুই বছরে নিজেকে পুরোপুরি পাল্টে ফেলেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। ৪৯ গড়ে ৬৮৬ রান তুলেন। মাউন্টেনিয়ার্সের বিপক্ষে ১৫০ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে খেলার জন্যে মনোনীত হননি। পরবর্তীতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলা প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০১৩ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। এপ্রিল, ২০১৩ সালে নিজ দেশে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৭ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে হারারেতে রেজিস চাকাভা’র আঘাতের কারণে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সফলতা না পেলেও স্ট্যাম্পের পিছনে বেশ চটপটে ছিলেন। তবে, ব্রেন্ডন টেলরের জোড়া শতকে খেলায় স্বাগতিক দল ৩৩৫ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে। দ্বিতীয় খেলায় আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দিয়ে ৪২ রান তুলেছিলেন।

২০১৪ সালে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৯ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেল স্টেইনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর পরিবর্তে রেজিস চাকাভা উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। অভিষেক ঘটা ডেন পাইতের বোলিং কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হয়।

২০১৪-১৫ মৌসুমে ব্রেন্ডন টেলরের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১২ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল ১৮৬ রানে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট