|

ব্রায়ান ম্যাকমিলান

২২ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের ওয়েলকম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

কার্লটন জোন্স এইচএসে অধ্যয়নের পর উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত ট্রান্সভালের সদস্য ছিলেন। এরপূর্বে, ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত ট্রান্সভাল ‘বি’ দলের পক্ষে খেলেন। ১৯৮৬ সালে ওয়ারউইকশায়ারের সদস্য ছিলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। ২০০০ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ক্লাবটিতে যুক্ত ছিলেন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৩৮ টেস্ট ও ৭৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১০ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় তিনি মাত্র ২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, ৬ ওভার বোলিং করে উইকেট শূন্য ছিলেন।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। মার্চ, ১৯৭০ সালের পর নিজ দেশে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট খেলা ছিল। ১৩ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিমি কুক, ব্রেন্ট শ্যুলজ, জন্টি রোডসওমর হেনরি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রবীণ আম্রে’র অসাধারণ শতকে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

আঘাতের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর করতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলস মন্তব্য করেন যে, ‘আমাদের বিগ ম্যাককে প্রয়োজন।’ ১৯৯৪ সালে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ১৮ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯৩ ও ২৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে ০/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভন ম্যালকমের অনবদ্য বোলিংশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। এ সিরিজে ২৬৪ রান সংগ্রহসহ ৯ উইকেট দখল করে ডেভন ম্যালকমের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৭৪। খেলায় তিনি ৪/৬৫ ও ৩/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডেভিড রিচার্ডসনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৯ জানুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন। বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৯৮ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১১৩ ও ৩৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে আসিফ মুজতবা’র প্রথম উইকেট লাভ করে করে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২/৪৫ ও ২/৩৩ পান। তবে, ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্সের অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৪ রানে জয় পায়।

১৯৯৮ সালে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ আগস্ট, ১৯৯৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৫৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। উভয় ইনিংসেই তিনি ডমিনিক কর্কের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৪ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক বুচারের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ২৩ রানে পরাভূত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলো থেকে তিনটি শতক হাঁকিয়েছেন। ওডিআইয়ে তিনবার ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকের কাছে ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে বিশ্বের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে চিত্রিত হয়েছিলেন। দলের রান সংগ্রহে কিংবা উইকেট ভাঙ্গতে তিনি বিরাট ভূমিকা রাখতেন। দক্ষিণ আফ্রিকান দলে ‘বিগ ব্রাদার’ নামে পরিচিতি পান।

২০০০ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৩১০ উইকেট দখল করেছেন। ব্যক্তিগত সেরা ৫/৩৫ লাভ করেন। এছাড়াও, ৭৮৯৮ রান তুলেছেন। ডারবান বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাদারী পর্যায়ে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে কেপটাউনে অফিস অটোমেশন ফার্ম পরিচালনা করছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট