|

জারহরদাস লাইবেনবার্গ

৭ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের আপিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনসহ ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। সচরাচর সামনের পায়ে ভর রেখে অফের দিকে বলকে ঠেলে দিতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ফ্রি স্টেট ও গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা দূর্দান্ত হয়েছিল। গ্রিকুয়াজের পক্ষে প্রথম দুই খেলায় ৮৪ ও ১০৮ রান তুলেছিলেন। ১৯৯০ সালে ফ্রি স্টেটে চলে যাবার পরও শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা ধরে রেখেছিলেন।

১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়। অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল হিসেবে তাঁকে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। কিন্তু, তাঁকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। এছাড়াও, এ সফরে দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজস্ব প্রথম দ্বি-শতক হাঁকিয়ে আলোচনায় চলে আসেন। তবে, টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২২ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৭ রানে থাকা আরএস কালুবিতরানা’র ক্যাচ গালি অঞ্চলে অবস্থান করে মুঠোয় পুরতে পারেননি। খেলায় তিনি ০ ও ৪৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, অ্যালান ডোনাল্ডের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

এরপর, ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে চার টেস্টে অংশ নিলেও ছয় ইনিংস থেকে মাত্র ৫৯ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এরপর আর তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে রাখা হয়নি।

২ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক ক্যালিসের প্রাণান্তঃকর প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৬ আগস্ট, ১৯৯৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। মার্ক বুচারের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ২৩ রানে পরাভূত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৩৪.৭৬ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। বহুমূখী ক্রীড়া প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। নিজ রাজ্য দলের পক্ষে অ্যাথলেটিক্স ও টেনিসে অংশ নিয়েছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট