১২ জুন, ১৯৬৪ তারিখে স্কটল্যান্ডের হেলেন্সবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার, রেফারি ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ল্যান্টার্ন লেন প্রাইমারি স্কুলে অধ্যয়ন করেন। তাঁর পরিবার দক্ষিণের দিকে চলে গেলে ইস্ট লিকভিত্তিক হ্যারি কার্লটন কম্প্রিহেনসিভ স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। কিশোর বয়সে ক্রিকেটে বেশ দক্ষতার ছাঁপ রাখেন। কাউন্টি বয়সভিত্তিক দলে খেলেন। এরপর, কোল্টস দল ও নটস দ্বিতীয় একাদশের সদস্য হন।

পরিশ্রমী অফ-স্পিনার হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স, লিচেস্টারশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের ৪৯৪তম খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৮২ থেকে ২০০১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৯৮২ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে লর্ডসে মিডলসেক্সের বিপক্ষে প্রথম খেলেন। ঐ গ্রীষ্মে আরও সাত খেলায় অংশ নিয়ে ২৫ উইকেটের সন্ধান পান। নিজস্ব তৃতীয় খেলায় গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এডি হেমিংসকে সাথে নিয়ে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

১৯৮৩ সালে ইংল্যান্ড ইয়ং ক্রিকেটার্সের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া ইয়ং ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তিনটি অনূর্ধ্ব-১৯ টেস্ট ও একটি ওডিআইয়ে অংশ নেন। ট্রেন্ট ব্রিজে নিজ মাঠে এ পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রথম খেলার সুযোগ পান। নটিংহ্যামশায়ারের দলীয়সঙ্গী অ্যান্ডি পিকের সাথে প্রথম টেস্টে অংশ নেন। নটসের তৃতীয় খেলোয়াড় পল জনসন সিরিজের শেষ দুই টেস্টে তাঁদের সাথে যোগ দেন। তিন টেস্ট থেকে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, চেমসফোর্ডের চূড়ান্ত খেলায় ৭/৭২ পেয়েছিলেন।

১৯৯৩ সালে চ্যাম্পিয়নশীপে দারুণ খেলে নিজ দেশে অ্যাশেজ সিরিজে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে ১১ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৩ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুন, ১৯৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যান্ডি ক্যাডিকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে আট উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ৬/৬৭ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, ১৪* ও ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, শেন ওয়ার্নের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৯ রানে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। একই টেস্টে শেন ওয়ার্ন আট উইকেট পেয়েছিলেন ও মাইক গ্যাটিংকে তাঁর ‘শতাব্দীর সেরা বলে’ বিদেয় করেছিলেন। তবে, নিজ দেশে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করার পর বাদ পড়েন।

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিজ দেশে আট টেস্ট খেলার পর ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমের শীতকালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী দুই টেস্ট খেলেন। পরের গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট খেলেন। ১৯৯৯ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫১ বল মোকাবেলায় ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র বলে শূন্য রানে ফেরৎ গেলেও দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৫ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে টেস্টগুলো থেকে ৩৭ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।

নিজের পুণরুত্থানের দূর্দান্ত চিহ্ন প্রদর্শন সত্ত্বেও বেশ কয়েক বছর ইংল্যান্ড দলে ফেরার প্রতীক্ষায় ছিলেন। নটিংহ্যামশায়ার ও লিচেস্টারশায়ারে ১৯ মৌসুম কাটানোর পর এসেক্সে যুক্ত হন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। এসেক্স একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করতে থাকেন। ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের সাথে কাজ করেন। দশ বছর ইংল্যান্ডের স্পিন-বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক পর্যায়ে আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট