২৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
মারকুটে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। সচরাচর, মিড-অফ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকতেন। ওয়েলসীয় পিতা ও কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান মাতার সন্তান ছিলেন। কালো চোখ ও কৃষ্ণাঙ্গ বর্ণের অধিকারী চার্লি লিউইলিনের শরীরে মিশ্র রক্ত বহমান ছিল।
১৮৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ১৯১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ক্লাব ক্রিকেটে অ্যাক্রিংটন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে দূর্দান্ত ভূমিকা রেখেছিলেন। ক্রিকেটীয় দক্ষতার কারণে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে নাটাল দলের সদস্যরূপে সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত করে। দূর্দান্ত খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে জায়গা করে নেন।
১৮৯৬ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ বছর ১৫৫ দিন বয়সে ২ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের সদস্যরূপে খেলেন। পরবর্তীতে খেলাটি টেস্টের মর্যাদা পায়। ক্লিমেন্ট জনসন, জর্জ রো, জর্জ শেপস্টোন ও বিলি ফ্রাঙ্কের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পান। তবে, ঐ টেস্টে তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। খেলায় তিনি ০/৭১ বল হাতে নিয়ে বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৪ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, সিরিজের বাদ-বাকী টেস্টে তাঁকে দলে রাখা হয়নি।
কিন্তু, ১৮৯৭-৯৮ ও ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমের কারি কাপে চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলে পুণরায় তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়েছিল। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৮ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে আলবার্ট ট্রটের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৩৫। ২/৩৫ ও ৩/৮৯ লাভ করেন। ৩২ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা পিছিয়ে পড়ে। বিস্ময়করভাবে, দ্বিতীয় টেস্টে বাদ পড়েন।
১৯০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৯০ ও ৪* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে এইচ ট্রাম্বলকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৮৯। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। বল হাতে নিয়ে ৬/৯২ ও ৩/১২৪ পান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৮ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/৪৩ ও ৫/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ১০ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৫৯ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯১০-১১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেছিলেন। তবে, এ সফরে তেমন কিছুই করতে পারেননি। ৯ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১১৪ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৭ জানুয়ারি, ১৯১১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৩ ও ৮০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১০৭ ও ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩৮ রানে জয় পেলেও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে আঘাতের কারণে মাঠে নামতে পারেননি। এছাড়াও, ১/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৫৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯১২ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ফ্রাঙ্ক মিচেলের অধিনায়কত্বে স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুন, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ৭৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। উভয় ইনিংসেই ফ্রাঙ্ক ফস্টারের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬২ রানে জয় পায়।
১২ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৬২ বছর বয়সে ১৯৩৮ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এক কন্যার জনক ছিলেন। ৭ জুন, ১৯৬৪ তারিখে ইংল্যান্ডের চার্টসি এলাকায় ৮৭ বছর ২৫৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। দুই বছর পূর্বে পা ভেঙ্গে ফেলেন ও আরোগ্য লাভ করেননি। মৃত্যুর পরও বিতর্কিত হয়ে পড়েন। লন্ডনে বসবাসরত স্বীয় কন্যা ১৯৮৭ সালে জনসমক্ষে মন্তব্য করেন যে, ‘তিনি অ-শ্বেতাঙ্গ ছিলেন না। মাতা ইংরেজ বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ ছিলেন।’ তাঁকে ঘিরে প্যাট্রিক অ্যালেন ‘এ ব্রিফ বায়োগ্রাফি অব চার্লস বেনেট লিউইলিন’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
