২৪ জুলাই, ১৮৮৮ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সেভেনহিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। মিডিয়াম পেসের উপযোগী অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রসিদ্ধ অস্ট্রেলীয় টেস্ট ক্রিকেটারের পরিচিতি লাভ করেন।
দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ও চশমা পরিধান করতেন। নাথানিয়েল রিচার্ডসন ও অ্যালাইস দম্পতির সন্তান ছিলেন। সেভেনহিল পাবলিক স্কুলে অবস্থানকালীন ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। এরপর, স্ট্যানলি অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেন। ১৭ বছর বয়সে ২৩৯, ১৪২ ও ১৫০ রান তুলেন। সবগুলো ক্ষেত্রেই অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। এছাড়াও, প্রায়শঃই বোলিং উদ্বোধনে নামতেন।
১৯১৮-১৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯২৪ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বিল পন্সফোর্ড ও ভিক রিচার্ডসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২২ ও ৯৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/০ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৯৩ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১ জানুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২০ ও ১/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮১ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯২৬ সালে ওয়ারেন বার্ডসলি’র নেতৃত্বধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। লিডসের হেডিংলি টেস্টে মনোরম শতক হাঁকান। বোলিংকালে ‘লেগ তত্ত্ব’ প্রয়োগের চেষ্টা চালান। ১২ জুন, ১৯২৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টে বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করালেও দলের সকলের ন্যায় তিনিও ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৪ জুলাই, ১৯২৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে গ্রেভিল স্টিভেন্সের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ১৪ আগস্ট, ১৯২৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই উইলফ্রেড রোডসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ ও ২/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২৮৯ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৩১ গড়ে ৪০৩ রান ও ৪৩.৪২ গড়ে ১২ উইকেট দখল করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ৪১.৫৭ গড়ে ৫২৩৮ রান ও ৩১.৯৭ গড়ে ২০৯ উইকেট পেয়েছিলেন।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ধাবিত হন। ২টি টেস্ট ও ৩টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দুই টেস্ট পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৩৬ সালে অ্যাডিলেডে ফিরে আসেন। কোচিং, আম্পায়ারিং ও ক্রিকেট খেলা দেখে জীবনের বাদ-বাকী সময় অতিবাহিত করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৮ এপ্রিল, ১৯১৪ তারিখে এলসি মাউড ট্রেসট্রেইলের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এ পর্যায়ে তিনি অ্যাডিলেডে ওয়াটার-মিটার টেস্টার হিসেবে কাজ করতেন। কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সেমাফোর এলাকায় ৮৫ বছর ১৫২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
