৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে কলম্বোর শহরতলী ওয়াত্তালা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী জেফ্রে ভ্যান্ডার্সে কলম্বোভিত্তিক ওয়েসলি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। টপ-স্পিন, গুগলি ও স্লাইডারের সমন্বয়ে তিনি বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। শেন ওয়ার্ন ও কুমার সাঙ্গাকারাকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে মুরস স্পোর্টস ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কলম্বো কিংস ও সিদুয়া র্যাডুলুয়া ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত পুলিশ এসসি বনাম সিদুয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পাকিস্তানী একাদশের বিপক্ষে তিনদিনের খেলায় ৮ উইকেট নিয়ে আলোচনায় চলে আসেন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়। ২০১৫ সালে নিজ দেশে টি২০আই দলে অন্তর্ভুক্ত হন।
২০১৫ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৩০ জুলাই, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এরপর, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলেন। লাসিথ মালিঙ্গা’র স্থলাভিষিক্ত হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের প্রথম খেলায় নির্ধারিত চার ওভারে ১/১১ লাভ করেন। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ভালো খেলেন। তবে দলকে সেমি-ফাইনালে নিয়ে যেতে পারেননি।
প্রথম এগারোটি ওডিআইয়ের কোনটিই নিজ দেশে খেলেননি। তবে, ২০১৭ সালের শেষদিকে ভারতের বিপক্ষে ওডিআই কিংবা টি২০আই সিরিজের কোনটিতেই রাখা হয়নি। কিন্তু, দিল্লিতে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে রঙ্গনা হেরাথের বিকল্প হিসেবে দলে রাখা হয়েছিল।
২৫ জুন, ২০২২ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে ঘিরে তাঁকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ২০২২ সালে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৯ জুন, ২০২২ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মারনাস লাবুশেনকে স্ট্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। ২/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ক্যামেরন গ্রীনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। তবে, দ্বিতীয় টেস্টের পূর্বে ধনঞ্জয়া ও অসিতের ন্যায় তিনিও কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীতে আক্রান্ত হন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বিজে ওয়েবস্টারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৬৮। খেলায় তিনি ৩/১৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ৫৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ম্যাথু কুনেমানের শিকারে পরিণত হন। উসমান খাজা’র অসাধারণ দ্বি-শতরানের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৪২ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
