২৬ মে, ১৯৭৯ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘মালি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কলম্বোভিত্তিক সেন্ট পিটার্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ক্রিকেটে সহজাত প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তবে, জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ে তাঁকে বেশ সময় নিতে হয়। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা সাউথ, বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাব, কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব ও কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তবে, ২০০৬ সালেই কেবলমাত্র নিজের সেরা খেলা উপহারে সচেষ্ট ছিলেন।

ভারত সফরে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে গমন করেন। এরপর, দিলীপ ট্রফিতে দর্শনীয় বামহাতি মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীয় প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হন। ঐ প্রতিযোগিতায় তিন খেলায় অংশ নিয়ে ১০৫.২৫ গড়ে ৪২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ইডেন গার্ডেন্সে উপর্যুপরী দুইটি অপরাজিত শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে তাঁর দল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় অবতীর্ণ হয়। এরপর, পূর্বতন শিরোপাধারী উত্তর অঞ্চলের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় অপরাজিত ১৪৯ রান তুলে দলের শিরোপা বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন।

তবে, খুব দ্রুত স্বীকৃতি আদায় করতে পারেননি। এরপর, নিউজিল্যান্ড সফরে উপেক্ষিত হন। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে ঠিকই রানের স্রোতধারা অব্যাহত রাখেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে নিজেকে স্বাভাবিকভাবে মেলে ধরতে পারেননি। অসুস্থতার কবলে পড়েন। কিন্তু, এর পরপরই নিজ দেশে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে অসাধারণ খেলা উপহার দেন। কোল্টসে নিজ শহরের মাঠে প্রথম অনানুষ্ঠানিক টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৪৩ রান তুলেন। এরপর, দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক ওডিআইয়ে ১০৪ রানের অপরাজিত ইনিংস হাঁকালে উভয় স্তরের দলে স্থান নিশ্চিত করেন।

২০০৭ থেকে ২০০৯ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০ মে, ২০০৭ তারিখে আবুধাবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন।

২০০৭ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০০৭ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, তাঁর এ অভিষেক পর্বটি অবশ্য হতাশাব্যঞ্জক ছিল। প্রথম বলেই তাঁকে প্যাভিলিয়নমূখী হতে হয়। শাহাদাত হোসেনের বলে এলবিডব্লিউতে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল ইনিংস ও ২৩৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। অবশ্য, দ্বিতীয় টেস্টে নিজেকে খেলার জগতে ফিরিয়ে আনেন। ৮২ রান সংগ্রহ করেন।

পরের বছর প্রভিডেন্সে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চমৎকার শতক হাঁকান। পরবর্তীতে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য দলে ছিলেন। ২০০৯ সালে নিজ দেশে ইউনুস খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কুমার সাঙ্গাকারা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। অবশ্য, তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট