২২ জুলাই, ১৮৬৩ তারিখে মিডলসেক্সের ইলিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সুখ্যাতি পাওয়া ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সদস্য ছিলেন। হার্ন ভ্রাতৃত্রয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। ১৮৮৪ থেকে ১৯১০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড সাউথ, হার্স্ট পার্ক ক্লাব, বিবাহিত, প্লেয়ার্স, ইংল্যান্ড ইস্ট, সাউথ প্লেয়ার্স ও হোম কাউন্টিজের পক্ষে খেলেছেন। কেন্টের পক্ষে সফলতম খেলোয়াড়ী জীবন পাড় করেন। লেগ-ব্রেক বোলার হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পরবর্তীতে ব্যাটিংয়ের বেশ উত্তরণ ঘটান।
১৮৮৪ সালে প্রথম মৌসুমেই বোলিং গড়ে দলটির শীর্ষে অবস্থান করেন। পৌণে সতেরো গড়ে ৪১ উইকেট পেয়েছিলেন। ক্যান্টারবারিতে সফরকারী অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে দলের স্মরণীয় বিজয়ে ৭/৬৬ লাভ করেছিলেন। এরপর থেকে দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। পরের মৌসুমে ব্রামল লেনে ইয়কর্শায়ারের বিপক্ষে ৪৮ রান খরচায় ১৩ উইকেট দখল করেন। এক পর্যায়ে লেগ-ব্রেক বোলিং ভঙ্গীমাকালীন আঘাতের কবলে পড়েন। এরফলে, নিজেকে অফ-স্পিনার হিসেবে গড়ে তুলেন। ১৮৮৮ সালে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে ১১ রানেরও কম গড়ে ৪১ উইকেট পান।
১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে ওয়াল্টার রিডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। ১৯ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। উইলিয়াম চ্যাটারটন, ভ্রাতা জর্জ হার্ন, কাকাতো ভাই জন থমাস, ডিক পাওয়ার ও ভিক্টর বার্টনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে দলের একমাত্র ইনিংসে ৯ রান তুলেন ও বোলিংয়ের সুযোগ পাননি। তবে, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তখন একই সময়ে ডব্লিউজি গ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ডের প্রধান দলটি অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় ও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ফ্রাঙ্ক হার্ন দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যরূপে খেলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮৯ রানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে সোচ্চার হন। খুব দ্রুত শীর্ষসারিতে নিয়মিতভাবে ব্যাট করার সুযোগ পান। এ পর্যায়ে তিনি পিছনের পায়ে ভর রেখে ব্যাটিং করতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৫টি শতক হাঁকিয়েছেন। ১৮৯৯ সালে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে জ্যাক ম্যাসনকে সাথে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৩২১ রানের রেকর্ডসংখ্যক জুটি গড়েন। ২৩ মৌসুম খেলার পর কাউন্টির সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ও সর্বাধিক উইকেট শিকারীতে পরিণত হয়েছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কেন্টের টনব্রিজ নার্সারিতে প্রশিক্ষণ দিতেন। এছাড়াও, কাউন্টি দলটির স্কোরারের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৬ মে, ১৯৫২ তারিখে কেন্টের বেকেনহাম এলাকায় ৮৮ বছর ২৯৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর ভ্রাতা – জর্জ হার্ন ও ফ্রাঙ্ক হার্ন কেন্টের পক্ষে খেলেছেন।
