১৯ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্পিনার। এছাড়াও, প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার ছিলেন। যে-কোন ক্লাবের জন্যেই অমূল্য সম্পদরূপে বিবেচিত হয়েছেন। মাঝারিসারিতে মারকুটে ব্যাটসম্যান, শৈল্পিক লেগ-স্পিন ও সীমানা বরাবর ফিল্ডিং করতেন।
লিকলিকে গড়নের অধিকারী। হারারেভিত্তিক চার্চিল হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। তাকাশিঙ্গা ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে লেগ স্পিন বোলিং করতেন। পরবর্তীতে ব্যাটিংয়ের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ব্যাটিংয়ে উত্তরণের পাশাপাশি লেগ-স্পিন বোলিংয়েও দারুণ সফল হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ইস্টার্নস, মনিকাল্যান্ড ও মাউন্টেনিয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৭ জুন, ২০০৬ তারিখে মুতারেতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এরপর থেকে বিভিন্ন দলের পক্ষে ঘরোয়া আসরে অংশ নিয়ে আসছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ খেলেন। ইস্টার্নসের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো লোগান কাপে অংশ নেন। প্রসপার উতসেয়া’র সাথে জুটি গড়ে দলের শিরোপা বিজয়ে দূর্দান্ত ভূমিকা রাখেন। ১৭.৬২ গড়ে ৩৬ উইকেট পান। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০০৯-১০ মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় সামান্য ব্যবধানে শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। ১৮.৯৪ গড়ে ৫৮ উইকেট দখল করেন। এ সময়ে সন্দেহাতীতভাবে জিম্বাবুয়ের অন্যতম সেরা ধীরগতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। তবে, টেস্ট অভিষেকের দুই মৌসুম পূর্বে অনেকগুলো খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র ১৬ উইকেট পেয়েছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি গুগলি ও সিম সহযোগে দ্রুততর বলগুলোর সংমিশ্রণ ঘটাতেন।
২০০৭ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলের সদস্য হন। কিন্তু, কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। তবে, খুব দ্রুত ওডিআইয়ে খেলার সুযোগ পান। একই বছরে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। কিন্তু ২২ আগস্ট, ২০০৭ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তেমন কোন সাফল্যের সন্ধান পাননি। তারপর থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে মাঝে-মধ্যে ওডিআইয়ে অংশ নিতে থাকেন। পাশাপাশি সুন্দর বোলিংও করেন।
১৭ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে ব্যাটিংয়ের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটানোর ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটে বিরাট প্রভাব ফেলেন। মাউন্টেনিয়ার্সের সদস্যরূপে ১২ ইনিংস থেকে ৫১.৮০ গড়ে রান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, একটি শতক ও চারটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস ছিল। পূর্ববর্তী দুই মৌসুমেও একই ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। অধিকাংশ রানই ৫ কিংবা ৬ নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পেয়েছিলেন। তবে, সংগঠিত ব্যাটিং কৌশল অবলম্বন ও ফুরফুরে মেজাজের কারণেই টেস্ট অভিষেকে শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন।
২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টারে প্রথমবারের মতো দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করেন। এ পর্যায়ে ৮০০ রান ও ৩৬ উইকেট পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালে নর্দার্ন হেমিস্ফেয়ারে চলে যান। আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের বালব্রিগান সিসিতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে আরও একবার নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে সচেষ্ট হন। অল-রাউন্ডার হিসেবে ৪৮.০৭ গড়ে ৬৭৩ রান করেন ও ১৮.৭৬ গড়ে ২৫ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, রাস সিসির বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১২৫ ও রেলওয়ে ইউনিয়নের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৫/২২ দাঁড় করান। ২০১৯ সালের গ্রীষ্মকালে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন। রিবলসডেল লীগ প্রতিযোগিতায় চেরি ট্রি সিসির পক্ষে খেলেন। কাঁধের সমস্যায় পুণরায় আক্রান্ত হলেও ৪৭.০০ গড়ে ৭০৫ রান ও ২২.১৩ গড়ে ৩১ উইকেট পান।
২০২১ সালে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৯ জুলাই, ২০২১ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ২২০ রানে পরাজিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
