|

জর্জ হার্স্ট

৭ সেপ্টেম্বর, ১৮৭১ তারিখে ইয়র্কশায়ারের কির্কহিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ক্রিকেটার এবং আম্পায়ার ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

মেরি এলিজাবেথ ওলহাউজের পুত্র ছিলেন। দশ বছর বয়সে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। প্রথম হস্তচালিত তাঁতকল ও পরবর্তীতে রঙের কাজে যুক্ত হন। পনের বছর বয়সে গ্রাম্য একাদশে খেলে ব্যাটিং ও বোলিং – উভয় বিভাগে স্থানীয় সংবাদপত্র থেকে পুরস্কার পান।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউরোপিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯১ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯০৬ সালে এক মৌসুমে ২০০০ রান ও ২০০ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।

১৮৯৭ থেকে ১৯০৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে ড্রিওয়ে স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক ম্যাসন, ফ্রাঙ্ক ড্রুসবিল স্টোরারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৭ ও ০/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি এছাড়াও, ৪৪ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে আর্নি জোন্সের বলে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০২ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ আগস্ট, ১৯০২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/৭৭ ও ১/৭ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৩ ও ৫৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১ উইকেটে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০৫ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুলাই, ১৯০৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৪০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৪ জুলাই, ১৯০৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮০ রানে জয় পেলে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯০৭ সালে নিজ দেশে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রেজি সোয়ার্জের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ৩/৩৯ ও ৩/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মে, ১৯০৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত খেলে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। কলিন ব্লাইদের ১১ উইকেটের পাশাপাশি তিনি ৯ উইকেট দখল করেন। খেলায় তিনি ৪/২৮ ও ৫/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৬৫ ও ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১২৬ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২৬ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ ও ১/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯০১ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৯৪৯ সালে ২৬জন সাবেক পেশাদার ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে এমসিসি’র সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিং জগতে প্রবেশ করেন। তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। বাগান পরিচর্যায় বেশ আগ্রহ ছিল তাঁর ও ‘মিসেস ডেলস ডাইরি’ শীর্ষক বেতার অনুষ্ঠান বেশ ভালোবাসতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১ জানুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে জর্জ কিলনার নামীয় জনৈক শ্রমিকের কন্যা এমা কিলনারের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির জেমস নামীয় এক পুত্র এবং অ্যানি ও মলি নাম্নী দুই কন্যা ছিল। ইয়র্কশায়ার সিসিসি থেকে পিয়ানো উপহার লাভকালীন কন্যাদ্বয়কে সাথে নিয়ে যান। ১০ মে, ১৯৫৪ তারিখে ইয়র্কশায়ারের লিন্ডলে এলাকায় ৮২ বছর ২৪৫ দিন বয়সে নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যু পরবর্তী ৯ আগস্ট, ১৯৫৪ তারিখের হিসেব অনুযায়ী £৫,৮৪৪ পাউন্ড-স্টার্লিং সমমূল্যের সম্পদ রেখে যান।

জনৈক লেখক একবার মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘পূর্বে অনেক সেরা ক্রিকেটার ছিলেন, এখনো রয়েছেন এবং আনন্দের বিষয় হচ্ছে আবারও আরও সেরা ক্রিকেটার হবেন। কিন্তু, ক্রিকেটের ইতিহাসে জর্জ হার্স্ট সর্বদাই নিজেকে অনন্য স্থানে নিয়ে গেছেন। সেরা খেলাটি আরও মহত্তর হচ্ছে কেননা তিনি খেলছেন, প্রত্যেককেই উচিৎ শিক্ষা দিচ্ছেন, কির্কহিটন থেকে মেলবোর্ন, সিডনি থেকে লর্ডস পর্যন্ত তিনি পূজনীয় প্রভূ ও জীবিত উজ্জ্বীবনী শক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।’

সম্পৃক্ত পোস্ট