| |

জনি টিল্ডসলে

২২ নভেম্বর, ১৮৭৩ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের রো গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ক্রিকেটার এবং কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ল্যাঙ্কাশায়ার ক্লাব ক্রিকেটে শুরুরদিকের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ও ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে সচেষ্ট হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৫ থেকে ১৯২৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৯৫ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এছাড়াও, ১৯২৩ থেকে ১৯২৬ সময়কালে মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে ল্যাঙ্কাশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেন।

অপর ল্যাঙ্কাশায়ারীয় ব্যাটসম্যান আর্নেস্ট টিল্ডসলের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। কাউন্টি দলটির পক্ষে ত্রিশ হাজারের অধিক রান তুলেছেন। স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন। শৌখিন ব্যাটসম্যানদের যুগে পেশাদারী পর্যায়ে খেলতেন। ১৩টি দুইশত রানের ইনিংস খেলেছেন। তন্মধ্যে, ১৯০১ সালে এক মৌসুমে সর্বাধিক ২৬৩৩ রান তুলে দলের তৎকালীন রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন।

১৮৯৯ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ৩১ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। চার শতক সহযোগে ১৬৬১ রান তুলেছেন। তন্মধ্যে, এজবাস্টন টেস্টে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুমে মেলবোর্ন টেস্টের উভয় ইনিংসে ৯৭ ও ৬২ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি উইলফ্রেড রোডসের ১৫ উইকেট দখলের কারণে সফরকারীরা জয়লাভ করতে সমর্থ হয়।

১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লেম উইলসন, ফ্রাঙ্ক মিচেল, ফ্রাঙ্ক মিলিগ্যান, জ্যাক বোর্ড, পেলহাম ওয়ার্নার, শোফিল্ড হেইউইলিস কাটেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ১৭ রান করে সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৩২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ এপ্রিল, ১৮৯৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৭ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১৩ ও ১১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ২১০ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে ইংল্যান্ড দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ঐ বছর নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। নটিংহাম ও লর্ডস টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, উভয় টেস্টেই ব্যাটিংয়ের তুলনায় ফিল্ডিংয়েই অধিক তৎপরতা দেখান।

১৫ জুন, ১৮৯৯ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯০১-০২ মৌসুমে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। পূর্ববর্তী মৌসুমে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে দূর্দান্ত ব্যাটিংয়ের কারণেই তাঁকে দলে রাখা হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৩২৩ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০৫ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুলাই, ১৯০৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১০০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৪ জুলাই, ১৯০৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৪ আগস্ট, ১৯০৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ১১২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০৭ সালে নিজ দেশে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৫ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে চার্লস ম্যাককার্টনি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ১২৬ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৬ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ ও ১১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ১৬৬১ রান পেয়েছিলেন। ১৯০৬ সালে ম্যানচেস্টারে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন ও £৩,১১১ পাউন্ড-স্টালিং লাভ করেন। অবসর গ্রহণকালীন ল্যাঙ্কাশায়ারের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহের অধিকারী ছিলেন। চার দশকব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ৮৬ শতক সহযোগে ৪০.৬৬ গড়ে ৩৭৮৯৭ রান তুলেছিলেন।

১৯০২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯২৯ সাল পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ারের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ২৭ নভেম্বর, ১৯৩০ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের মন্টন এলাকায় ৫৭ বছর ৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। জীবনের শেষদিকে কয়েক বছর বেশ দূর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। মৃত্যুর দিন সকালে ম্যানচেস্টারের ডিন্সগেটে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যোগদানের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে মাটিতে পড়ে যান।

সম্পৃক্ত পোস্ট