|

গিলবার্ট জেসপ

১৯ মে, ১৮৭৪ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের চেল্টেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মারকুটে ব্যাটিং করে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ক্রুচার’ ডাকনামে ভূষিত গিলবার্ট জেসপ ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। সর্বকালের সেরা মারকুটে ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীকালে ভিভ রিচার্ডস, ক্রিস গেইল, বীরেন্দ্র শেহবাগ তাঁর কাতারে শামিল হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৭৯টি অর্ধ-শতক হাঁকান। এ পর্যায়ে ঘণ্টায় ৭৯ রান তুলেন। অপরদিকে, ৫৩টি শতক হাঁকানোকালে ঘণ্টায় ৮৩ রান তুলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৪ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৯৫ সালে বেকলস স্কুলে শিক্ষকতাকালীন ১৩২ গড়ে ১০৫৮ রান ও আড়াইয়ের কম গড়ে ১০০ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৮৯৯ থেকে ১৯১২ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ১৮৯৯ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। চার্লি টাউনসেন্ড ও ওয়াল্টার মিডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৫১ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১০৫ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯০১-০২ মৌসুমে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ১৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে হিউ ট্রাম্বলের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৩২৩ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০২ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ আগস্ট, ১৯০২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ১০৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, খেলায় তিনি ০/১১ লাভ করেন। স্বাগতিকরা ১ উইকেটে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০৭ সালে নিজ দেশে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১ জুলাই, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৮৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১৯ আগস্ট, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি অংশগ্রহণ করলেও আঘাতের কারণে ব্যাট কিংবা বোলিং করতে পারেননি। ১২৬ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯১২ সালে নিজ দেশে ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা লুইস ট্যানক্রেডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৮ জুলাই, ১৯১২ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৭৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, ১৮৯৭ সালে পি. এফ. ওয়ার্নার ও পরবর্তীতে ১৮৯৯ সালে কে. এস. রণজিৎসিংজী’র নেতৃত্বে আমেরিকা গমন করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি সর্বক্রীড়ায় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। হকিতে গোলরক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ও ব্লু লাভ করেন। অসুস্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় অংশ নিতে পারেননি। ফুটবলে ব্লু লাভের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। দ্য ক্যাজুয়ালসের পক্ষে হাফ-ব্যাক কিংবা গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, গ্লুচেস্টার আর.এফ.সি’র পক্ষে উইং-থ্রিকোয়ার্টার এলাকায় অবস্থান করতেন। ১০০ গজের দৌড় ১০.২ সেকেন্ডে শেষ করতেন ও নিয়মিতভাবে ক্রীড়াবিষয়ক সভায় অংশ নিতেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯১৪ সাল থেকে ১৯১৮ সালে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভোগার পূর্ব পর্যন্ত ম্যানচেস্টার রেজিমেন্টে ক্যাপ্টেন পদবীধারী ছিলেন। ক্রিকেটের বাইরে গল্ফ খেলায় বেশ অনুরক্ত ছিলেন। ১৯১৪ সালে অ্যামেচার চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নেন। এছাড়াও, কয়েক বছর ক্রিকেটার্স গল্ফিং সোসাইটি ও এজওয়ার ক্লাবের সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সফরের কয়েক মাস পূর্বে অক্টোবর, ১৯০২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিএলও জেসপ নামীয় সন্তানের জনক। ১১ মে, ১৯৫৫ তারিখে ডরসেটের ফোর্ডিংটন এলাকায় ৮০ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট