১৬ জুন, ১৯৬৮ তারিখে জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
অনেকাংশে অপ্রস্তুত বোলিং ভঙ্গীমায় নিচু হাতে ও নিজেকে সামলে না নিয়ে বল করতেন। তাসত্ত্বেও, বলকে বাঁকাতে পারতেন ও নিজেকে সংযত রাখতে পারতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ২১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তুলনামূলকভাবে বেশ দেরীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। স্বল্পকালীন খেলোয়াড়ী জীবনে কেবলমাত্র একবারই স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। লিঙ্কন রবার্টসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র ২১৩ রানের পর বল হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৭০ পান ও দলের ১০ উইকেটের বিজয়ে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। এরফলে, চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা সমতায় ফেরে। একই সফরের ১১ এপ্রিল, ১৯৯৯ তারিখে কিংসটাউনে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমের শীতকালে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৫ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
উজ্জ্বলতর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়িত করতে পারেননি। এরপর থেকে বেশ কয়েকবার পিঠের আঘাতে কবলে পড়লে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন অকালে থমকে দাঁড়ায়। ৩৫ বছর বয়সে ৩১ মার্চ, ২০০৪ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ঐ মৌসুমের ক্যারিব বিয়ার কাপে মাত্র তিন খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২৬ জুলাই, ২০০৮ তারিখে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে ক্লাইড বাটসের সাথে তাঁকেও যুক্ত করা হয়। এছাড়াও, বীমা পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। স্ত্রীকে পেটানোর অভিযোগে তাঁকে হাজতবাস করতে হয়।
