১১ এপ্রিল, ১৯৮২ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের ওয়ালসগ্রেভ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানরূপে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বেলি’ ডাকনামে পরিচিত ইয়ান বেল ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। মূলতঃ চার নম্বর অবস্থানে খেলেন। রাগবিভিত্তিক প্রিন্সথর্প কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, পার্থ স্কর্চার্স, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও ওয়ারউইকশায়ার ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে খেলেছেন।
২০১৬-১৭ মৌসুমে পার্থ স্কর্চার্সের বিগ ব্যাশ লীগের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।
২০০৪ থেকে ২০১৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১১৮ টেস্ট, ১৬১টি ওডিআই ও আটটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ২০০৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, স্টিভ হার্মিসনের অনবদ্য অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০০৫ সালে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুন, ২০০৫ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ম্যাথু হগার্ডের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই বছর নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ২০০৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অপূর্ব বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৩৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৭ সালে নিজ দেশে রামনরেশ সারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ মে, ২০০৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১০৯* ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টি ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলায় অ্যালাস্টার কুকের ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া খেলাটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯৭ ও ২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৫ মার্চ, ২০০৮ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ৫৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৮৯ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২২ মার্চ, ২০০৮ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৯ ও ১১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রায়ান সাইডবটমের অসাধারণ কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ১২১ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৮ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ জুলাই, ২০০৮ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩১ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ১০ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩০ জুলাই, ২০০৮ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫০ ও ২০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে মাখায়া এনটিনি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৮-০৯ মৌসুমে কেভিন পিটারসনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ ও ৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বীরেন্দ্র শেহবাগের অপূর্ব ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৯ সালে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫৩ রান সংগ্রহ করেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
একই সফরের ২০ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭২ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৯৭ রান জয়ে পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০০৯-১০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৮ রানের ব্যবধানে জয় পেয়ে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১২ মার্চ, ২০১০ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮৪ ও ৩৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রায়েম সোয়ানের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৮১ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১০ সালে নিজ দেশে ফিরতি সফরে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মে, ২০১০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্টিভেন ফিনের বোলিং দাপটে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৪ জুন, ২০১০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২৮ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।
২০১০-১১ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কেভিন পিটারসনের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যালাস্টার কুকের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১১ সালে নিজ দেশে কুমার সাঙ্গাকারা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ মে, ২০১১ তারিখে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১০৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জোনাথন ট্রটের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৬ জুন, ২০১১ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ক্রিস ট্রেমলেটের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১১-১২ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৫ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। আজহার আলী’র দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ইংল্যান্ড দল ৭১ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১২ সালে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ২০১২ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭৬* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১২ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৬ আগস্ট, ২০১২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি ৫৮ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫১ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১৩ সালে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। লর্ডস টেস্টে শতক হাঁকিয়ে চতুর্থ ও সর্বশেষবারের মতো লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। ১০৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৩৬১ রান সংগ্রহে বিরাট ভূমিকা রাখেন। দলের সংগ্রহ ২৮/৩ থাকাকালে মাঠে নামেন ও ২১১ বল মোকাবেলান্তে ৩০৭ মিনিটে ১৬টি চারের মারে এ সংগ্রহ দাঁড় করান। এরফলে, মাত্র চতুর্থ ইংরেজ খেলোয়াড় হিসেবে অ্যাশেজ টেস্টে উপর্যুপরী তিনটি শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের অধিকারী হন। ইয়র্কশায়ারের ব্যাটসম্যান তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৭৪ রানের ইনিংস খেলে জো রুটের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর সাথে দলের ৩৪৭ রানের সহজ বিজয়ে অংশ নেন। এরফলে, সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পাশাপাশি, খেলায় তিনি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
একই সফরের ২১ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৫ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শেন ওয়াটসনের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ৫৬২ রান তুলে রায়ান হ্যারিসের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মিচেল জনসনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা রায়ান হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ২৮১ রানে জয় পেলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০ জুন, ২০১৪ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে নিজস্ব শততম টেস্টে অংশগ্রহণের কৃতিত্বের অধিকারী হন। ইংল্যান্ডের দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে এ মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে, ঐ টেস্টে তাঁর দল পরাজিত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল। সিরিজের প্রথম টেস্টে তিনি ৫৬ ও ৯ রান তুলেন। ঐ খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
২০১৪ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ২০১৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনভেস্টেক টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ ও ১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইশান্ত শর্মা’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৭ জুলাই, ২০১৪ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত পতৌদি ট্রফির তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৬৭ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ২৬৬ রানে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।
২০১৫ সালে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১ মে, ২০১৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরৎ যেতে বাধ্য হন। জার্মেইন ব্ল্যাকউডের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়।
২০১৫ সালে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১০ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্টিভেন স্মিথের মনোরম শতকে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৬ রান জয় পেলেও ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১৫-১৬ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪০ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ দুইটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, মোহাম্মদ হাফিজের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাকিস্তান দল ১২৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০৬ সালে আইসিসি বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। একই সালে রাণীর নববর্ষের সম্মাননায় ওবিই পদবী লাভ করেন। দৃষ্টিনন্দন ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার লাভ করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ৩০ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে হোবার্ট হারিকেন্সের সহকারী কোচ হিসেবে মনোনীত হন। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
