২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকান মাতা ও ইংরেজ পিতার সন্তান তিনি। ১১ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। এরপর থেকে বয়সভিত্তিক সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেন। পিতা-মাতার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে ও খুব শীঘ্রই মাতার স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঘটনা ঘটে। নতুন গৃহীত দেশে তাঁকে বেশ কঠিন সময় অতিবাহিত করতে হয়। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ম্যাট প্রায়র ইস্ট সাসেক্সের ব্রাইটন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স ও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্স ও সাসেক্স ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে খেলেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
২০০৪ থেকে ২০১৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৭৯ টেস্ট, ৬৮ ওডিআই ও ১০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৪০.১৮ গড়ে রান পেয়েছেন, ২৪৩টি ক্যাচ ও ১৩টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়েছেন। ৫ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
২০০৭ সালে নিজ দেশে রামনরেশ সারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ মে, ২০০৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শতক হাঁকিয়ে অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন। এরফলে, ইংল্যান্ডের প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে শতরানের ইনিংস খেলার গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২৬* ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টি ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলায় অ্যালাস্টার কুকের ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া খেলাটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪০ ও ০ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তী বছরগুলোয় ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অবস্থান মজবুত করতে নিজেকে বিলিয়ে দেন।
২০০৮-০৯ মৌসুমে কেভিন পিটারসনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৩* ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। বীরেন্দ্র শেহবাগের অপূর্ব ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৯ সালে নিজ দেশে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ মে, ২০০৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। গ্রায়েম সোয়ানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৪ মে, ২০০৯ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৩ রান সংগ্রহসহ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্বে থেকে একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জেমস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই বছর নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
একই সফরের ২০ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৯৭ রান জয়ে পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০০৯-১০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১২ মার্চ, ২০১০ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। গ্রায়েম সোয়ানের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৮১ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১০ সালে নিজ দেশে ফিরতি সফরে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মে, ২০১০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্টিভেন ফিনের বোলিং দাপটে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৪ জুন, ২০১০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ইয়ান বেলের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১০-১১ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৭* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। কেভিন পিটারসনের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে সাতটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, অ্যালাস্টার কুকের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১১ সালে লর্ডসে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তৃতীয়বারের মতো লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। দলের সংগ্রহ ৬২/৫ থাকা অবস্থায় মাঠে নেমে ১২০ বল মোকাবেলায় করে এ সংগ্রহ দাঁড় করান। স্টুয়ার্ট ব্রডের সাথে ১৬২ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন। ১৯৬ মিনিটব্যাপী স্থায়ী ঐ ইনিংসে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কার মার ছিল।
একই বছর নিজ দেশে তিলকরত্নে দিলশানের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুন, ২০১১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১২৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনেতার অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০১১-১২ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৪৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। আজহার আলী’র দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ইংল্যান্ড দল ৭১ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১২ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৬ আগস্ট, ২০১২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ৭৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি স্ট্যাম্পিং ও ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫১ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ২৭৫ রান সংগ্রহ করে হাশিম আমলা’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩ ও ২৩* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১৩ সালে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ ও ০* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, শেন ওয়াটসনের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১৪ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ২০১৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনভেস্টেক টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ ও ১২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইশান্ত শর্মা’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ক্রমাগত তিনবার এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন। ২০১০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। আর্সেনাল এফসি ও ব্রাইটনের প্রতিনিধিত্বকারী উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফুটবলার স্যামি নেলসনের কন্যা এমিলির সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
