৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে জ্যামাইকার জোন্স টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম-পেস কিংবা অফ-স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, দূর্দান্ত ফিল্ডার হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ড্যানি জার্মস’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। লম্বাটে ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী ছিলেন। এক সময় তাঁকে ‘গ্যারি সোবার্সের ডানহাত’ হিসেবে পরিচিতি ঘটানো হয়েছিল। ১৯৭০-এর দশকে প্রতিভাবান অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় তারকা খেলোয়াড় হিসেবে চিত্রিত হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এছাড়াও, ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে খেলেছেন।

১৯৭৭ সালে মন্টেগো বে’তে অনুষ্ঠিত শেল শীল্ডের ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে মরিস ফস্টারের (২১৩) সাথে ৩০৮ রানের জুটি গড়ে জ্যামাইকীয় রেকর্ড গড়েন। নিজে করেন ১৩১ রান। ১৯৭৮ সালে শীল্ডের খেলায় জ্যামাইকার পক্ষে খেলে তাঁর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর অপূর্ব প্রদর্শন ঘটান। কুইন্স পার্ক ওভালে একই দলের বিপক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৮৮ ও ৫৬ রান সংগ্রহসহ অফ-স্পিন বোলিং করে ৪/৪৫ ও ৮/৭১ লাভ করেছিলেন। উপর্যুপরী তিন মৌসুম জ্যামাইকার পক্ষে দারুণ খেলার সুবাদে তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৭৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো খেলাই সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে সেন্ট জোন্সে ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

৩ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেসমন্ড হেইন্সডেরিক প্যারি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ১০৬ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৭ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কলিন ক্রফ্টের বলে গ্রাহাম ইয়ালপের ক্যাচ বিস্ময়করভাবে তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

কিন্তু, টেস্টগুলোয় তেমন সফলতার ছাঁপ ফেলতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর, ক্যারি প্যাকারের পরিচালনায় বিতর্কিত বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। জানুয়ারি, ১৯৭৯ সালে ভিএফএল পার্কে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ডেনিস লিলি ও তাঁর সহযোগীদের বল মোকাবেলা করে ৭৭ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৫/৮৫ লাভ করেন। পরবর্তীতে আর তাঁকে দলে রাখা হয়নি। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন নিষিদ্ধঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে অংশ নেন। এরফলে, আজীবনের জন্যে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। পরবর্তীতে, ১৯৮৪ সালে আরও একবার দক্ষিণ আফ্রিকায় যান।

সব মিলিয়ে ৩৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে চারটি শতক সহযোগে ৩৩.৮২ গড়ে ২০৯৭ রান তুলেছিলেন। প্রথম শতকটি সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে ১৪১ রানের ছিল। পরবর্তীতে, এটিই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানে পরিণত হয়। ১৯৮২ সালে উইন্ডওয়ার্ডসের বিপক্ষে সর্বশেষ খেলেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল ও টেবিল টেনিসে সিদ্ধহস্তের পরিচয় দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯৮০ সালে কিংস্টনের নাইট ক্লাবে মলি বিজনট-অস্টিনের সাথে পরিচিত হন ও পরবর্তীতে বিয়ে করেন। এ দম্পতির রিকার্ডো নামীয় সন্তান ছিল। ১৯৮৪ সালে তাঁদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। জীবনের শেষদিকে জ্যামাইকার ফুটপাতে অবস্থান করতেন ও কোকেইন আসক্ত হন। স্বল্পকালীন অসুস্থতায় ভুগে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ৬০ বছর ১৫৫ দিন বয়সে কিংস্টন পাবলিক হাসপাতালে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট