|

আলবার্ট ওয়ার্ড

২১ নভেম্বর, ১৮৬৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ওয়াটারলু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ছয় ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রথিতযশা ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছেন। ১৮৮৬ থেকে ১৯০৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৮৮৯ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ব্যাপক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে, বসবাসের যোগ্যতা লাভের পক্ষে ল্যাঙ্কাশায়ারের সদস্য হন।

অনেকটা অদ্ভূতভাবে ইয়র্কশায়ার থেকে তাদের গোলাপী প্রতিপক্ষ ল্যাঙ্কাশায়ারে চলে আসেন। নতুন কাউন্টিতে এসে ৩০ গড়ে ১৪৬৯৮ রান তুলেন। তন্মধ্যে, নয়বার মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় বেশ জোড়ালো ড্রাইভ মারতে পারতেন। ১৮৯৯ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় নিজেকে জড়ান। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে খেলাকালীন ডেভিডসনের বলে তাঁর ব্যাট ভেঙ্গে স্ট্যাম্প থেকে বেইল পড়ে গেলে তিনি হিট উইকেটে বিদেয় নেন। এ সময়ে তিনি ৭২ রান তুলেছিলেন।

১৮৯৩ থেকে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র সাতটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বেশ উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৪৩ রানে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। সিডনিতে ঐতিহাসিক জয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ফলো-অন পরবর্তী ইংল্যান্ডের বিজয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৭ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন।

১১ জানুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। তবে, তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। খেলায় তিনি ৫ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩৮২ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৪৭ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতায় আনতে সমর্থ হয়।

এরপর, ১ মার্চ, ১৮৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে ২৯৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে ধাবমান ইংরেজ দলের পক্ষে ৯৩ রান তুলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। একই সফরে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ২১৯ রান তুলেছিলেন।

টেস্টগুলো থেকে ৩৭.৪৬ গড়ে ৪৮৭ রান তুলেছিলেন। আগস্ট, ১৯০২ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। গোলাপের খেলার প্রতিপক্ষীয় দলের বিপক্ষে চব্বিশ হাজারের অধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন ও £১,৭৩৯ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন। তবে, ঐ খেলাটির শেষদিনে বৃষ্টি ব্যাঘাত ঘটায়।

খেলোয়াড়ী জীবনেই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। বোল্টনে ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ৬ জানুয়ারি, ১৯৩৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের হিটন এলাকায় নিজ গৃহে ৭৩ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট