৩১ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সেন্ট জর্জ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বাকি’ ডাকনামে ভূষিত ক্রিস রজার্স ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৭ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। জন রজার্স ও রস রজার্স দম্পতির সন্তান। ক্লাব ক্রিকেটে প্রাহরানের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, লিচেস্টারশায়ার, মিডলসেক্স ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, সমারসেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও শ্রপশায়ারের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৫ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে অনিল কুম্বলে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে সর্বমোট ১৯ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ১৫ রান তুলে উভয় ইনিংসে ইরফান পাঠানের বলে বিদেয় হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইরফান পাঠানের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭২ রানে জয় পেলেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে।
এক পর্যায়ে ২৪ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমনের জন্যে মনোনীত হন। ২০১৩ সালে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ রান সংগ্রহ করেন। তবে, শেন ওয়াটসনের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
এ সিরিজে ব্যাটিং উদ্বোধনে শেন ওয়াটসন ও ডেভিড ওয়ার্নারের সাথে ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়কে বেছে নেন। বিস্ময়করভাবে পুরো সিরিজে ৩৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, চতুর্থ টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। এ সাফল্যের কারণে পরবর্তী ২০১৩-১৪ মৌসুমের ফিরতি সিরিজ খেলতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে রাখা হয়েছিল। নিজ দেশে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। আবারও তিনি ব্যাট হাতে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। এ সিরিজে ৪৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, নিজ শহরে প্রথম শতক হাঁকান। মেলবোর্নের বক্সিং ডে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় বিরাট ভূমিকা রাখেন। একই সিরিজে আরও একবার তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। সিডনি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬১ ও ১১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মিচেল জনসনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১১ ও ১১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা রায়ান হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ২৮১ রানে জয় পেলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মিচেল জনসনের অনবদ্য বোলিং কৃতিত্বে সফরকারীরা ২৮১ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সালে আবারও নিজের পরিচিতি ঘটাতে তৎপর হন। এ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৭ রান তুলেন। নিজ দেশে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ছয় ইনিংস থেকে দুইটি অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন।
২০১৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বীরোচিত ভূমিকা রাখেন। লর্ডস টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭৩ রানের ইনিংস খেলেন।
একই সফরের ২০ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্টিভেন স্মিথের মনোরম শতকে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৬ রান জয় পেলেও ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় ৪৯.৫৫ গড়ে ৭৬ শতক সহযোগে ২৫৪৭০ রান সংগ্রহ করেছেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
