২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হুইটবি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘পিনাট’ ডাকনামে ভূষিত অ্যাডাম লিথ ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কেডমন স্কুলে অধ্যয়ন শেষে হুইটবি কমিউনিটি কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্স ও মুলতান সুলতান্সের পক্ষে খেলেছেন।
১৯ বছর বয়সে প্রো৪০ খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। ১৬ মে, ২০০৭ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত ইয়র্কশায়ার বনাম লাফবোরা ইউসিসিইর মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। পরের মৌসুমে কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা তেমন সুবিধে করতে না পারলেও সেখানেই তিনি অবস্থান করতে থাকেন। ২০১০ সালে ১৫০৯ রান তুলে সফলতম সময় অতিবাহিত করেন। পরের মৌসুমে ছন্দহীনতার কবলে পড়েন ও প্রথম একাদশের বাইরে চলে যান।
অপর দলীয় সঙ্গী জো রুট ও গ্যারি ব্যালেন্স তাঁকে অতিক্রম করেন এবং থ্রি লায়ন্স দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন। তাসত্ত্বেও, ইয়র্কশায়ারের অধিনায়ক অ্যান্ড্রু গেল বিশ্বাস করেন যে, তিনি অপর দুইজনের তুলনায় অধিকতর প্রতিশ্রুতিশীল ছিলেন। তবে, প্রায় দুই বছর কোন শতরানের সন্ধান পাননি। ২০১৩ সালে সফল হন ও দ্বি-শতকে পরিণত হন। এরফলে, প্রথম ইয়র্কশায়ারীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বি-শতরান করেন ও ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে অপরাজিত থাকেন।
২০১৪ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী ইয়র্কশায়ার দলে থেকে খ্যাতি কুড়ান। সতীর্থ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স লিক্সকে নিয়ে দলের এ সাফল্যের প্রধান রূপকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ জুটি অপ্রতিরোধ্য ছিল। এক পর্যায়ে হার্বার্ট সাটক্লিফ ও লেন হাটনের সাথে তাঁদের তুলনা করা হতো। এছাড়াও তাঁরা ইয়র্কশায়ারের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়ে। ওয়ানটেজ রোডে অনুষ্ঠিত খেলায় নর্দান্টসের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৭৫ রান তুলেন।
২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২১ মে, ২০১৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মার্ক উডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৭ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বেন স্টোকসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১২৪ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৯ মে, ২০১৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। ব্যাট হাতে নিয়ে ১০৭ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বিজে ওয়াটলিংয়ের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯৯ রানে পরাজয়বরণ করলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০১৫ সালে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ১০ রান সংগ্রহ সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্টিভেন স্মিথের মনোরম শতকে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৬ রান জয় পেলেও ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১০ সালে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন। এরপর, ২০১৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন।
