১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে বার্বাডোসের হোল্ডার্স হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

প্রতিভাবান বামহাতি খেলোয়াড় হিসেবে হঠাৎ আলোর ঝলকানী দেখান। সম্ভাবনাময় অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও ছন্দহীনতার কবলে পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঝারিসারিতে স্থিতিশীলতার প্রতীকরূপে বিবেচিত করা হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ১৭ বছর বয়সে বার্বাডোসের পক্ষে তাঁর অভিষেক ঘটে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে স্বীয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিতে তাঁকে কয়েক মৌসুম অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ২০০১-০২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতায় বার্বাডোস দল শিরোপা জয় করে। জুলাই, ২০১০ সালে বার্বাডোস দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এ পর্যায়ে স্বীয় ভ্রাতা জেসন হাইন্ডসকে সাথে নিয়ে খেলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওডিআই দলে খেলার জন্যে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট ও ১৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে ক্যান্ডিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। অপরাজিত ১৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন।

পরের বছর টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ২০০১-০২ মৌসুমে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩১ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে সুবিধে করতে না পারলেও ব্যাট হাতে অর্ধ-শতক হাঁকান। ঐ খেলায় তাঁর দল বিশাল ব্যবধানে পরাজয়বরণ করেছিল। একের পর এক ক্যাচ ফস্কে যায় ও ফিল্ডিং তথৈবাচৈ ছিল। খেলায় তিনি ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬২ ও ৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শোয়েব আখতারের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ক্যারিবীয় দল ১৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৯ ও ২/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অপরাজিত চতুর্শতকের কল্যাণে খ্যাতি পাওয়া ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২২ মার্চ, ২০০৮ তারিখে প্রভিডেন্সে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৭ ও ১০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। চামিণ্ডা ভাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২১ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

তবে, তাঁর খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে চলে আসার পূর্বে সর্বদাই দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন। আর্থিক মতানৈক্যের জের ধরে দলের প্রথম একাদশ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ২০০৯ সালে নিজ দেশে মাশরাফি মর্তুজা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ২০০৯ তারিখে গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ২ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩২ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা সাকিব আল হাসানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের কারণে কুখ্যাতি পান। বলে আঁচড়ের অভিযোগে আম্পায়ার তাঁকে সতর্ক করলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর জের ধরে বার্বাডীয় দলের অধিনায়কত্ব থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ৩০ মার্চ, ২০১২ তারিখে ২৮ বছর বয়সী রমণীকে ধর্ষনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে, অল্পদিনের মধ্যেই $৭,৫০০ মার্কিন ডলারের অর্থ মুচলেকাস্বরূপ জামিনে বের হয়ে আসেন। অতঃপর, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট