|

ফিল কার্লসন

৮ আগস্ট, ১৯৫১ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের নান্দাহ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮০-৮১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তিকালীন তিনি এক দশকের অধিক সময় অতিবাহিত করে ৭৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তন্মধ্যে, শেষ পাঁচ গ্রীষ্মে কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেনের ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে চিল্ডার্সে বসবাস করছিলেন। কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রির অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে অতিথি দলের বিপক্ষে খেলাকালীন তাঁর অন্তর্ভুক্তির কথা জানতে পারেন।

১৯৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মাত্র দুই টেস্ট ও চারটি ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো খেলাই ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর আয়ুষ্কাল ছিল মাত্র ১৯ দিন। ব্রিসবেন ও পার্থের প্রথম দুই টেস্টে দ্বাদশ খেলোয়াড় ছিলেন। তৃতীয় টেস্টে দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর, শীল্ডের খেলায় শতক হাঁকানোসহ কয়েকটি উইকেট লাভ করেন। অবশেষে শেষ দুই টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়। প্রাপ্ত দুই উইকেট ইংল্যান্ডের অধিনায়কদ্বয় – মাইক ব্রিয়ার্লি ও গ্রাহাম গুচের লাভ করেছিলেন।

২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। কেভিন রাইটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম দিন সকালে স্লিপ অঞ্চলে লাফিয়ে অ্যালান হার্স্টের বলে ডেরেক র‍্যান্ডলকে ফিরিয়ে দেন। ইয়ান বোথামের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এ পর্যায়ে তিনি পাঁচ বল মোকাবেলা করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ডেভিড গাওয়ার ঝাঁপিয়ে ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলায় তিনি ০ ও ২১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৪ ও ২/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইয়ান বোথামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২০৫ রানে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক গ্রাহাম ইয়ালপের অসাধারণ ব্যাটিং সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অংশগ্রহকৃত টেস্টের চার ইনিংস থেকে মাত্র ২৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। একই সফরের ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। ওডিআইগুলোয়ও একই ধারা বজায় রাখেন। মাত্র ১১ রান তুলতে পেরেছিলেন।

এরপর আরও দুই মৌসুম খেলেন। তেমন সফলতা না পাবার ফলে ১৯৮০ সালে ২৯ বছর বয়সে ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে চলে যান। এর পূর্বে শিক্ষকতা বিষয়ে ডিগ্রী লাভের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করেন। সেখানে শীত মৌসুমে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে অংশ নেন ও লিচেস্টারশায়ার দ্বিতীয় একাদশে খেলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন ও শারীরিক সমস্যা থাকলেও ক্রিকেটের সাথে তাঁর সখ্যতা অদ্যাবধি রয়ে গেছে। ৪৭ বছর বয়সে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। স্টিন এসই কার্লসন নামীয় সন্তান রয়েছে।

২৯ জুলাই, ২০২২ তারিখে ৭০ বছর ৩৫৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট