৭ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার বলিন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭২-৭৩ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ১৯৭৭ সালে গ্ল্যামারগন দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৭৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৯ টেস্ট ও ৩০টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৬ ও ১৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের অনবদ্য ব্যাটিং কৃতিত্বে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৩১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬৫ রানে জয় পেলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

অনেকটা আকস্মিকভাবে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব করা থেকে বঞ্চিত হন। বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটের পর বব সিম্পসনের অবসর ভেঙ্গে দলে নেতৃত্ব গ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ পান।

দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনকালে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের বিপক্ষে শোচনীয় পরাজয়ের শিকার হন। এ পর্যায়ে অবশ্য দলটি অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের ছাড়াই মাঠে নেমেছিল। তবে, ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে দলের সংগ্রহ ১৯৮ হলেও তিনি ১২১ রান তুলেছিলেন। অন্য কোন ব্যাটসম্যানই ১৬-এর অধিক রান তুলতে পারেনি ও তাঁর সংগৃহীত রান দলীয় সংগ্রহের ৬১.১১% ছিল। একটি পূর্ণাঙ্গ টেস্ট ইনিংসে তাঁর সংগ্রহটি দশম সর্বোচ্চ সংগ্রহের মর্যাদা পায়। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭৯-৮০ মৌসুমে কলকাতায় স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৬৭ রান তুলেন। ১৯৮১ সালে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করে। ১৩ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইয়ান বোথামের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০৩ রানে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৮১ সালে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুলাই, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৬ ও ৩৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ডেনিস লিলি’র আপ্রাণ বোলিং প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১১ নভেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে পার্থের ওয়াকায় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। কার্ল র‌েকেম্যানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে মেলবোর্নের বক্সিং ডে টেস্টে ২৬৮ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। সিরিজের চতুর্থ টেস্টে দলের একমাত্র ইনিংসে এ সাফল্য পান। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ২ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মাইকেল হোল্ডিংয়ের অনবদ্য বোলিংশৈলীতে সফরকারীরা ইনিংস ও ১১২ রানে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে আট শতকের সন্ধান পেয়েছেন।

১৯৮৫-৮৬ ও ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৬-সদস্যবিশিষ্ট অস্ট্রেলিয়ার বিদ্রোহী দলের অন্যতম সদস্যরূপে গমন করেছিলেন।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। ক্যাসে-সাউথ মেলবোর্নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ পর্যায়ে ২০০৬ সালে আলবার্ট পার্ক থেকে ক্রাবোর্নের ক্যাসে ফিল্ডসে ক্লাবের স্থানান্তর পর্যবেক্ষণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। ওয়েলশীয় রমণীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট