|

উইল্টন সেন্ট হিল

৬ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কৃষ্ণাঙ্গ ত্রিনিদাদীয়দের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথমদিকের কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার ছিলেন। তবে, দীর্ঘ খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখতে পারেননি। শ্যাননের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১১-১২ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯২০-এর দশকে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন পাড় করেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে ১২.২৫, ১৯২৩-২৪ মৌসুমে ১০.৩৩, ১৯২৬-২৭ মৌসুমে ৯.০০ ও ১৯২৮-২৯ মৌসুমে ১০.৬৬ গড়ে রান পেয়েছেন। সব মিলিয়ে চৌদ্দ মৌসুম থেকে কেবলমাত্র তিনবার ৪০ ও একবার ৫০ গড়ে রান তুলেছিলেন।

১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট সফরে কার্ল নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে যুক্ত হয়েছিলেন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। এ সফরে ১০.৯২ গড়ে ২৬২ রান তুলেন।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৩ ও ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, ১৯২৩ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভের পূর্বে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। এ সফরে ০, ১৩, ০ ও ৩৬ রান তুলেছিলেন। এমসিসি’র বিপক্ষে দুইবার শতরানের সন্ধান পান। ১৯২৬ সালে ও ১৯৩০ সালে। তন্মধ্যে, ১৯২৬ সালে লর্ড হ্যারিস তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন।

সিএলআর জেমস ‘বিয়ন্ড এ বাউন্ডারি’ শীর্ষক গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, ব্র্যাডম্যান, সোবার্স, জর্জ হ্যাডলি ও থ্রী ডব্লিউজ, হাটন ও কম্পটন, পিটার মে ও অন্যান্যদের সাথে তুলনা করলে লক্ষ্য করা যায় যে তিনি সকলের চেয়ে বলকে সর্বাগ্রে দেখতে পেতেন। যতটুকু সম্ভব দেরীতে বল মোকাবেলা করতেন। ডন ব্র্যাডম্যান, গ্যারি সোবার্সসহ অন্যান্যদের সাথে তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকলেও ৪৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২৭.১৫ গড়ে ১৯৪৮ রান পেয়েছিলেন।

বিপণী বিতানে বিক্রয়কর্মীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ধূমপায়ী ছিলেন। ১৯৫৭ সালে ত্রিনিদাদে ৬৩ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট