| |

অ্যান্ডি ডুকাট

১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ব্রিক্সটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৬ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেছেন। আড়াই দশক ধরে সারের পক্ষে খেলেছেন এবং রান সংগ্রহের ফল্গুধারা অব্যাহত রাখার কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯১৯ সালে অক্সফোর্ডের বিপক্ষে ৩০৬ রানের ইনিংস খেলেন। মাত্র ১২ দিন পরই হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ২৭১ রান করেন। ১৯২১ সালে এসেক্সের বিপক্ষে অপরাজিত ২৯০ ও নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ২০৪ রান করেন।

১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ঐ বছর নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে বিধ্বস্ত সিরিজে ব্যাট হাতে নিয়ে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি। ২ জুলাই, ১৯২১ তারিখে লিডসে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। জর্জ ব্রাউন, ওয়ালি হার্ডিঞ্জজ্যাক হোয়াইটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মাত্র ৩ ও ২ রান তুলতে পেরেছেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে টেড ম্যাকডোনাল্ডের বলে স্লিপ অঞ্চলে ক্যাচ দেন। এ পর্যায়ে তাঁর ব্যাট ভেঙ্গে যায় ও একটি অংশ বেইল ফেলে দেয়। ২১৯ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খুবই স্বল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে ক্রিকেট ও ফুটবল – উভয় খেলা দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন। ফুটবলে সাউদেন্ড ইউনাইটেড, উলউইচ আর্সেনাল, অ্যাশটন ভিলা ও ফুলহামের সদস্য ছিলেন। শুরুতে সেন্টার-ফরোয়ার্ড ও পরবর্তীতে রাইট-হাফ অবস্থানে খেলতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে ৬টি খেলায় অংশ নেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ২৩ জুলাই, ১৯৪২ তারিখে লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত একটি খেলায় প্রাইভেট ডুকাট সারে হোম গার্ডের সদস্যরূপে সাসেক্স হোম গার্ডের বিপক্ষে খেলেন। ৫৬ বছর ১৫৭ দিন বয়সে খেলতে নেমে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রান তুলেন। ইয়র্কার মোকাবেলা করে মিড-অন অঞ্চলে বলকে ঠেলে দিয়ে উল্টে পড়ে যান। অংশগ্রহণকারী কয়েকজন খেলোয়াড় মন্তব্য করেন যে, ‘তিনি অনেকটা পাথরের মূর্তির মতো পড়ে যান ও মাঠে পড়ে মারা যান।’

বোলার ও রসায়নবিদ অ্যাটওয়েল দ্রুত দৌড়ে এসে তাঁর দাঁতের পাটি খুলেন ও বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তাঁর জ্ঞান ফেরার চেষ্টা চালান। অ্যাম্বুলেন্সে করে প্যাডিংটনের নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তে তাঁর দূর্বল হৃদপিণ্ডের উপস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়। ঐ খেলাটি পারস্পরিক সম্মতিতে বন্ধ করে দেয়া হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট