২৭ মে, ১৯৬০ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। কলম্বোভিত্তিক সেন্ট পিটার্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, মোরাতুয়া স্পোর্টস ক্লাব, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ৪৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে অমৃতসরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

১৯৮২-৮৩ মৌসুমে সোমাচন্দ্র ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফর করেন। ৪ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মিত্র ওয়েতিমুনি, সুশীল ফার্নান্দো, গাই ডি অলউইস, রুমেশ রত্নায়েকে, শ্রীধরন জগন্নাথনযোহন গুণাসেকেরা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ওয়ারেন লিসের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

অবশ্য, একই সফরের দ্বিতীয় টেস্টে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ১১ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে আরজে হ্যাডলিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৪৫। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। নিচেরসারির ব্যাটসম্যানদের গুটিয়ে ৫/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ১/৩৮ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ০ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। প্রসঙ্গতঃ এ জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো উপর্যুপরী দুই টেস্টে বিজয়ী হয়।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিজ দেশে ফিরতি সিরিজে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। আবারও নিউজিল্যান্ডীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন। ২৭* রানে অপরাজিত ছিলেন। দশম উইকেট জুটিতে অভিষেকধারী জয়ন্ত অমরাসিংহে’র সাথে (৩৪) সাথে ৬০ রান যুক্ত করেন। এ জুটির সংগ্রহটি তৎকালীন শ্রীলঙ্কান রেকর্ড হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে স্টিফেন বুকের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ৫/৮৬ ও ৩/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৬৫ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৮৪ সালে দিলীপ মেন্ডিসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ আগস্ট, ১৯৮৪ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে মনেপ্রাণে বোলিং করেন। ৩৯.১ ওভারে ৪/৯৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। সিদাথ ওয়েতিমুনি’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীতে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর শেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টে দুইবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড দল। টেস্টের তুলনায় ওডিআইয়ে কম সফল ছিলেন। তবে, ওভারপ্রতি কম রান খরচ করেছিলেন। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষে অবসর গ্রহণ করেন।

সচরাচর তিনি দ্রুতগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার ছিলেন না। তবে, বলকে নিশানা বরাবর বোলিং করতেন ও ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। সর্বোপরি, কোনরূপ চেষ্টা ছাড়াই মাঝে-মধ্যে বাউন্স করতে পারতেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিলেও তুলনামূলকভাবে সফল ছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট