২১ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে পার্থে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
শিশুসুলভ মুখশ্রীর অধিকারী। ২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, পার্থ স্কর্চার্স ও স্কারবোরার পক্ষে খেলেছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বনাম সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৮ বছর বয়সে ২০১০-১১ মৌসুমে মার্শ শীল্ড প্রতিযোগিতায় নিজস্ব তৃতীয় খেলায় ১৫৭ রান তুলেন। এরফলে, কনিষ্ঠ অস্ট্রেলীয় হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৫০ রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়েন।
২০১৪-১৫ মৌসুমে শেফিল্ড শীল্ডের চূড়ান্ত খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার লাভ করেন। বেলেরিভ ওভালে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৮১ ও ১৫৮ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও দল নির্বাচকমণ্ডলীর মন জয় করেনি। প্রতিপক্ষীয় দল শিরোপা জয় করে নেয়। ২০১৬-১৭ মৌসুমের পূর্বে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করে ভিক্টোরিয়ায় চলে এসেছিলেন। দল পরিবর্তনের ফলে তাঁর খেলার মোড় ঘুরে যায়। টেস্ট সিরিজ খেলতে তাঁকে জাতীয় দলে যুক্ত করা হয়।
২০১৬ সালে ভিক্টোরিয়ায় চলে যান। পরের দুই বছরেও খেলায় ক্রমশঃ উত্তরণ ঘটাতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।
২০১৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। বেশ পরিপক্কতার সাথে ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। চার খেলা থেকে দুইটি অর্ধ-শতরানের সন্ধান পান। পার্থে প্রথম অর্ধ-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়। এর পরপরই মার্শ শীল্ডে অংশ নিয়ে অবিশ্বাস্য ১৪১ রানের ইনিংস খেলে ভিক্টোরিয়াকে শিরোপা জয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।
৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ২৬ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। চেতেশ্বর পুজারা’র ব্যাটিং দাপটে স্বাগতিকরা ৩১ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২২ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জসপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৩৭ রানে জয় তুলে নেয় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৯ ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
নিজ দেশে শ্রীলঙ্কানদের মুখোমুখি হন। দারুণ খেললেও উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। ২০১৯ সালে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নেন। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে বিদেয় নেন। স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জোফ্রা আর্চারের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৩৫ রানে পরাভূত হলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়।
২০২১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলে তিনটি শতকসহ লিস্ট-এ ক্রিকেটে একটি শতরানের ইনিংস খেলেন।
২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। অ্যাশেজ সিরিজে বেশ হিমশিম খান। ২৩ ইনিংস শেষে তিনি ২২.১৯ গড়ে রান পেয়েছেন। ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বিদেয় নেন। অ্যাশেজের ১৩৯ বছরের ইতিহাসে অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। অলি রবিনসনের বলে মাত্র ৩ রানে বিদেয় নেন। পিটার ম্যাকএলিস্টারের ১০.৩৩ গড়ে রান সংগ্রহের সাথে তুলনান্তে তিনি মাত্র ৮.৭১ গড়ে রান পেয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৯* রান সংগ্রহসহ খেলায় একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ট্রাভিস হেডের অসাধারণ শতকে ভর করে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দিবা-রাত্রির দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ২৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে স্টুয়ার্ট ব্রডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৮ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উসমান খাজা’র জোড়া শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সালে প্যাট কামিন্সের অধিনায়কত্বে পাকিস্তান গমনার্থে তাঁকে অজি দলে রাখা হয়।
