২৮ জুলাই, ১৯৭০ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক গুগলি, টপ স্পিন ও ফ্লিপার সহযোগে বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়াও, অপূর্ব ফিল্ডিং করতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ছোটখাটো গড়নের অধিকারী। চমৎকার ও প্রতিভাবান অল-রাউন্ডার হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কনিষ্ঠ ভ্রাতা ব্রায়ান স্ট্র্যাংয়ের সাথে একত্রে খেলেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে দিন যতই চলমান রাখতে থাকেন, ততোই সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। ছন্দোময় বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। দলে অসাধারণ ফিল্ডারের পরিচিতি পান। প্রায়শঃই কভার কিংবা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করতেন। শেন ওয়ার্ন কিংবা অনিল কুম্বলে এমনকি মুশতাক আহমেদের ন্যায় খেলোয়াড়দের সমকাতারে না থাকলেও ১৯৯০-এর দশকে লেগ-স্পিনের উত্থানে তাঁকে ছাড়া পূর্ণাঙ্গতা পাবে না। যদি তিনি আরেকটু নিখুঁততা ধরে রাখতে পারতেন, তাহলে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হতেন।
সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রচণ্ড চাপের মুখের মধ্যে থেকেও নিজেকে সংযত রাখতেন এবং দ্রুততার সাথে রান তুলতে সচেষ্ট হতেন। প্রায়শঃই দলের সঙ্কটকালীন কার্যকর রান তুলে দলকে খেলায় ধরে রাখতেন। সচরাচর অফ-সাইডে বল ঠেলে দিতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। টেস্টের তুলনায় সীমিত-ওভারের ক্রিকেটেই অধিক সফল ছিলেন।
১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মনিকাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টস ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে ‘বি’ দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।
১৯৯৬ সালে স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করার ফলে ইংরেজ দলের দৃষ্টিগোচরে পড়েন। দুই মৌসুম ইংল্যান্ডে অতিবাহিত করেছেন। ১৯৯৭ সালে কেন্ট ও ১৯৯৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারের সদস্যরূপে মূল্যবান অভিজ্ঞতা লাভ করেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিলেও বিশেষ সুবিধে করতে পারেননি। ক্লাবের ২৪৫তম প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। এর পূর্বেকার মৌসুমে কেন্টের পক্ষে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী উপহার দিয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৬৩ উইকেট ও ৫৯০ রান তুলেন। তবে, নটিংহ্যামশায়ারে খেলে এর বিপরীত চিত্র তুলে ধরেন।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ অবস্থানে চলে যায় এবং ৪০-ওভারের এএক্সএ লাইফ লীগে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা অবস্থায় দলে যোগদান করেন। দলে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। এমনকি, ট্রেন্ট ব্রিজে তাঁর বোলিং অনুপযোগী ছিল। নটসের পক্ষে ১৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৩০ উইকেট পান। ক্যান্টারবারিতে কেন্টের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৫/১৬৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। ব্যাট হাতে মাত্র ৩০০ রান তুলেন। খুব কমই নয় নম্বর অবস্থানের চেয়ে উঁচুতে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২২টি লিস্ট-এ খেলায় অংশ নিয়ে ২৭ উইকেট ও ২৪৬ রান পান। বৃষ্টিবিঘ্নিত এএক্সএ লাইফ লীগের খেলায় ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ১৫ বলের ব্যবধান ছয় উইকেট পান ও খেলায় ব্যক্তিগত সেরা ৬/৩২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ১৯৯৯ সালে ক্লাইভ রাইস কোচের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেন ও দলের পেস বোলিং বিভাগকে শক্ত করার দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ফলশ্রুতিতে, দ্বিতীয় বছরের জন্যে চুক্তি নবায়ণ করা হয়নি ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ভাসবার্ট ড্রেকসকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
১৯৯৪ থেকে ২০০১ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্ট ও ৯৫টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একমাত্র ইনিংস থেকে ৬ রান ও খেলায় তিন উইকেট পেয়েছিলেন। ঐ খেলাসহ সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
এর কয়েক মাস পর ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ মৌসুমের শেষদিকে কনিষ্ঠ সহোদর ব্রায়ান স্ট্র্যাং জিম্বাবুয়ের দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁরা একত্রে খেলেন। ঐ একই টেস্টে গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ও অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অংশগ্রহণের ফলে দুই জোড়া ভ্রাতার একত্রে টেস্ট খেলার বিরল কীর্তিগাঁথা জড়িয়ে পড়ে। স্ট্র্যাং ভ্রাতৃদ্বয় একত্রে ১৪ টেস্ট ও ২৫টি ওডিআই খেলেছেন। এছাড়াও, হুইটল, স্ট্র্যাং ও ফ্লাওয়ার ভ্রাতৃদ্বয় একই টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রান সংগ্রহকালীন পূর্বতন সর্বোচ্চ রানকে ছাঁপিয়ে যান। ৪৯ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১ ও ১/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সচেষ্ট হন। ছয় খেলায় অংশ নিয়ে ১৬ গড়ে ১২ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, কেনিয়ার বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট তুলে নিয়ে দলকে প্রতিযোগিতার একমাত্র বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। ঐ খেলায় ভ্রাতৃদ্বয় সাত উইকেট পান। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে শেখুপুরায় ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসসমৃদ্ধ স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ১৭ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখ থেকে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে দলের সংগ্রহ ১৪২/৬ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। আট নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের সাথে ১৩১ রানের জুটি গড়েন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১০৬ রানের একমাত্র শতক হাঁকিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে স্বীয় কনিষ্ঠ ভ্রাতা ব্রায়ান স্ট্র্যাংয়ের সাথে নবম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েছিলেন। এছাড়াও, ৫/২১২ লাভ করেছিলেন। এরফলে, প্রথম জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই টেস্টে শতরান ও পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন। তবে, ওয়াসিম আকরামে ২৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। এর দুই টেস্ট পূর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উপর্যুপরী ইনিংসে ৫/১০৬ ও ৪/৬৬ পেয়েছিলেন। শেখুপুরায় সাফল্য লাভের দুই টেস্ট পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/১২৩ পান।
১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে সিডি ম্যাকমিলানকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/১০৬। ঐ টেস্টের এক ইনিংসে ৮ উইকেট পান। প্রথম ইনিংসে তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ৫১.৫-১২-১০৯-৮। এটি জিম্বাবুয়ীয় রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ, ঐ সময়ে অপর কোন জিম্বাবুয়ীয় খেলোয়াড় সাত-উইকেট পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ২/৪৯ পান। এরফলে, খেলায় ১৫৮ রান খরচায় ১০ উইকেট দখলের কৃতিত্ব দেখান। কেবলমাত্র, অ্যাডাম হাকল তাঁর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। পল ওয়াইজম্যানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। তবে, মাংসপেশীতে টান পরায় আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে ইতি টানতে হয়।
২০০১ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সদস্যরূপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। ২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকান দলের মুখোমুখি হন। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫২ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন। এরপর আর কাউন্টি ক্রিকেটে ফিরে যাননি। ৩৩ বছর বয়সে ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে সর্বশেষ ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০০৮ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডে অকল্যান্ড এইসেস দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এইচআরভি কাপ ও টি২০ কাপের শিরোপা বিজয়ের ফলে ২০১১ সালে চুক্তি নবায়ণ করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পান। প্রধান গুণাবলীর মধ্যে লড়াকু মনোবৃত্তি ও নিঃস্বার্থ প্রবৃত্তি রয়েছে। পিতা রোনাল্ড স্ট্র্যাং প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ার ও টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
