| |

ব্রায়ান স্ট্র্যাং

৯ জুন, ১৯৭২ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বামহাতি মিডিয়াম পেসার হিসেবে দিনব্যাপী বোলিং করার কারণে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। অবশ্য, তাঁর তুলনায় অধিক জনপ্রিয় ও জিম্বাবুয়ের সেরা স্পিনার পল স্ট্র্যাংয়ের ভ্রাতা তিনি। বোলার হিসেবে তাঁর বোলিংয়ের ধরন তেমন দর্শনীয় ছিল না। ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিংকালে পেস আনতে পারেননি ও বলে বৈচিত্র্যতা ছিল না বললেই চলে। তাসত্ত্বেও, ব্যাটসম্যানদেরকে একগুঁয়ে অবস্থায় রাখতে চিরাচরিত প্রথা বেছে নিতেন। এক পর্যায়ে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বিরক্তিকর বোলারের আখ্যা দেয়া হয়। তবে, ওডিআইয়ে তাঁর বোলিং তুলনামূলকভাবে বেশ কার্যকর ছিল ও বল থেকে রান সংগ্রহ করা দূরূহ ছিল।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ও ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৫ থেকে ২০০১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ২৬ টেস্ট ও ৪৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩/৪৪ ও ২/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০/৫১ ও ১/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৪ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

নিজ দেশে টেস্টে সেরা সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তন্মধ্যে, হারারেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে ছয়-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। নাইরোবিতে ব্যাটিং উপযোগী পিচে একদিনের আন্তর্জাতিকে এ সফলতা পান।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৯ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে ব্লোমফন্তেইনের গুডইয়ার পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০১ সালে নিজ দেশে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২০ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ৪/৮৩ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণের পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র অসম্ভব দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০২ সালে কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত বাদানুবাদে লিপ্ত হতেন। পরবর্তীতে, গুরুতর আঘাতের কারণে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষে জিম্বাবুয়ের অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটান। ২০০৩-০৪ মৌসুমে পুণরায় জাতীয় দলে ফিরে আসার চেষ্টা চালান। কিন্তু, ২৬ মার্চ, ২০০৪ তারিখে জেডসিইউ থেকে তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ক্লাব দলের পক্ষে খেলতে থাকেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট