| |

জোনাথন ট্রট

২২ এপ্রিল, ১৯৮১ তারিখে কেপ প্রদেশের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘বুজার’ কিংবা ‘ট্রটার্স’ ডাকনামে ভূষিত জোনাথন ট্রট ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ড ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্স ও মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ওয়ারউইকশায়ার ক্লাবে অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ৫২ টেস্ট, ৬৮ ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৮ জুন, ২০০৭ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

২০০৯ সালে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪১ ও ১১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৯৭ রান জয়ে পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০০৯-১০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ৬৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১২ মার্চ, ২০১০ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৯ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রায়েম সোয়ানের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৮১ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০১০ সালে নিজ দেশে ফিরতি সফরে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৪ জুন, ২০১০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইয়ান বেলের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই বছর সালমান বাটের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজের অপূর্ব খেলেন। ২৬ আগস্ট, ২০১০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৮৪ রানের শতক হাঁকান। এ পর্যায়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐ খেলার প্রথম ইনিংসে অষ্টম উইকেটে স্টুয়ার্ট ব্রডের (১৬৯) সাথে ৩৩২ রানের জুটি গড়েছিলেন। তবে, স্টুয়ার্ট ব্রডের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২২৫ রানে জয় পেয়ে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ করায়ত্ত্ব করে। ৪০৪ রান সংগ্রহ করে মোহাম্মদ আমিরের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

২০১০-১১ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭৮ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, কেভিন পিটারসনের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০১১ সালে নিজ দেশে কুমার সাঙ্গাকারা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ মে, ২০১১ তারিখে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২০৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১১-১২ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। আজহার আলী’র দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ইংল্যান্ড দল ৭১ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১২ সালে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ২০১২ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৫ ও ৫২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১৩ সালে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ ও ৫৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শেন ওয়াটসনের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন। লায়ন্স দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। দ্বি-শতক হাঁকান ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনের জন্যে মনোনীত হন। ২০১৫ সালে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১ মে, ২০১৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জার্মেইন ব্ল্যাকউডের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সিরিজের তিন টেস্ট থেকে মাত্র ১২ গড়ে রান পেয়েছিলেন। ছয় ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে কেবলমাত্র একবারই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছিলেন। তন্মধ্যে, তিনবার শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এরফলে, এ সফর শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না খেলার সিদ্ধান্ত নেন ও কিছুদিন পরই তিনি অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। তবে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলেছিলেন। কেন্টের বিপক্ষে ইয়ান বেলকে সাথে নিয়ে দ্বি-শতরানের জুটি গড়েছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে টি২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্কটল্যান্ড দলের কোচিং কর্মী হিসেবে যোগ দেন। এর পূর্বে ২১ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের ব্যাটিং পারমর্শক হিসেবে মনোনীত হন। ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সালে ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং পরামর্শকরূপে ভারত গমন করেন।

২০১১ সালে আইসিসি কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি।

সম্পৃক্ত পোস্ট