২৯ অক্টোবর, ১৯৭৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের সলফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
‘ফ্রাঙ্কি’ কিংবা ‘ভার্জিল’ ডাকনামে ভূষিত মাইকেল ভন ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। শেফিল্ডভিত্তিক সিলভারডেল কম্প্রিহেন্সিভে অধ্যয়ন করেছেন। ৭ জিসিএসই লাভ করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯ আগস্ট, ১৯৯৩ তারিখে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইয়র্কশায়ার বনাম ল্যাঙ্কাশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৫ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে ইয়র্কশায়ার কর্তৃপক্ষ তাঁকে কাউন্টি ক্যাপ প্রদান করে। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে ১৩৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২০ শতক সহযোগে ৩৭.৩৫ গড়ে ৮৫৯১ রান তুলেছিলেন। ১৯৯৬ সালে কার্ডিফে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৮৩ রান তুলেছিলেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ৮২ টেস্ট, ৮৬ ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্রিস অ্যাডামস ও গেভিন হ্যামিল্টনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৩ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যালান ডোনাল্ডের বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৪ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও ছেড়ে দেয়া খেলায় তিনি ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০১-০২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলতে যান। এ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে খেলেন। ১৩ মার্চ, ২০০২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রাহাম থর্পের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০২ সালে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৫ জুলাই, ২০০২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ১০০ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭০ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৮ আগস্ট, ২০০২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একমাত্র ইনিংসে ১৯৭ রান রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই সফরের ৫ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯৫ ও ৪৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। এ সিরিজে ৬১৫ রান সংগ্রহসহ ৪ উইকেট দখল করে রাহুল দ্রাবিড়ের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। ঐ বছর নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩১ জুলাই, ২০০৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩৩ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাখায়া এনটিনি ও গ্রায়েম স্মিথের দূর্দান্ত সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২৩ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মার্কাস ট্রেসকোথিকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়।
২০০৩-০৪ মৌসুমে ইংরেজ দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ১০ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কোচিত ভূমিকা রাখেন। ৫২ ও ১০৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর, অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৭ ও ১৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অপরাজিত চতুর্শতকের কল্যাণে খ্যাতি পাওয়া ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০০৪ সালে নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ২০০৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৬ রান সংগ্রহ করেন। তবে, স্টিভ হার্মিসনের অনবদ্য অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০০৫ সালে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুন, ২০০৫ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ম্যাথু হগার্ডের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই বছর নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ২০০৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অপূর্ব বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৩৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৫ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৫৮ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যান্ড্রু স্ট্রসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৭ সালে নিজ দেশে রামনরেশ সারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৪১ ও ৪০ রান তুলেছিলেন। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ৯ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৮৭ ও ৬১ রান সংগ্রহ করেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৮ সালে নিজ দেশে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৫ মে, ২০০৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ২১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শতক হাঁকিয়ে নিজেকে রেকর্ড বহিতে ঠাঁই করে নেন। এ মাঠে ১৯ ইনিংসের ছয়টিতে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন ও গ্রাহাম গুচের সংগৃহীত শতকের সাথে নিজেকে লর্ডস অনার্স বোর্ডে চিত্রিত করেন। তাঁর এ ইনিংসটি ২১৪ বল মোকাবেলায় ১১টি চারের মারে হয়েছিল। এছাড়াও, ২০০৫ থেকে ২০১১ সময়কালে টেস্ট মর্যাদার বাইরে থাকা প্রত্যেক টেস্ট দলের বিপক্ষে শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, মন্দালোক ও বৃষ্টির কারণে কাঙ্খিত ফলাফল আসেনি ও প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই বছর নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ জুলাই, ২০০৮ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ১০ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩০ জুলাই, ২০০৮ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ১৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে আন্দ্রে নেলের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেটের পাশাপাশি গল্ফে সিদ্ধহস্তের অধিকারী। স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজে অনুষ্ঠিত আলফ্রেড ডানহিল লিঙ্কস চ্যাম্পিয়নশীপে শেন ওয়ার্নের সাথে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বিবিসিতে জেমস অ্যান্ডারসন, ঈসা গুহ প্রমূখদের সাথে একত্রে কাজ করেন। কিন্তু আজিম রফিককে উদ্দেশ্য করে বর্ণবৈষম্যে অভিযুক্ত হলে ২৪ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে তাঁকে বাদ দেয়া হয়।
২০০৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজ বিজয়ে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুবাদে ২০০৬ সালের নববর্ষের সম্মাননায় তাঁকে ওবিই উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
