গ্রেগ রিচি

২৩ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের স্ট্যানথর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ফ্যাট ক্যাট’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩০ টেস্ট ও ৪৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। আব্দুল কাদিরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৮ অক্টোবর, ১৯৮২ তারিখে লাহোরে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। এ সফরে উভয় স্তরের ক্রিকেটে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন। এছাড়াও, টেস্ট সিরিজে একমাত্র অস্ট্রেলীয় হিসেবে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে মনোরম শতক হাঁকান।

একই মৌসুমে নিজ দেশে বব উইলিসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৬ নভেম্বর, ১৯৮২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এ পর্যায়ে তিনি দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কেপলার ওয়েসেলসের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৭ রান সংগ্রহ করেন। তবে, বব হল্যান্ডের দূর্দান্ত বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৮৫ সালে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৩ জুন, ১৯৮৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, টিম রবিনসনের অসাধারণ ব্যাটিং দাপটে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৯ আগস্ট, ১৯৮৫ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৪* ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রাহাম গুচের অসামান্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৪ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২২ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৮৯ ও ১৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসেই রিচার্ড হ্যাডলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। জন ব্রেসওয়েলের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ১৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কৃষ শ্রীকান্তের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে ফিরতি সফরে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯২ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৮৬ সালে হায়দ্রাবাদে প্রবল ঝড়ের কারণে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওডিআই পরিত্যক্ত হয় ও কোন ফলাফল হয়নি। তবে, প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে তিনি ৫৩ বলে ৭৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যায়ে মদন লালের শেষ ওভার থেকে ২২ রান আদায় করে নিয়েছিলেন।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ৪৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ইয়ান বোথামের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৬ ও ৪৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারের ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটিতে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১০ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৫৫ রানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ৩৫.২০ গড়ে তিন শতক সহযোগে ১৬৯০ রান তুলেছিলেন। কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে দশ মৌসুম খেলেছেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর গণমাধ্যমে ঝুঁকে পড়েন। এছাড়াও, নৈশভোজন পরবর্তী বক্তা ও ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। অ্যালান বর্ডার, কেন গ্রোভার ও অস্টিন রবার্টসনকে নিয়ে অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে গালিভার্স স্পোর্টস ট্রাভেল পরিচালনা করছেন। ২০০০ সালে কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে সাতজন সেরা ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে মনোনীত হন। শেফিল্ড শীল্ডে দলটির পক্ষে ছয় হাজারের অধিক রান তুলেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। র‌্যাচেল হেদারিংটন (টেস্কে) নাম্নী অস্ট্রেলিয়ার সেরা পেশাদার গল্ফারের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির কন্যা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *