| |

জর্জ গিয়েরি

৯ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের বারওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এক চর্ম্মকারের ষোলো সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। চরম দারিদ্র্যতার মধ্যে দিনাতিপাত করেছেন। নিজের সময়কালে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলারদের একজন ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১২ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। নিয়মিতভাবে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নেন। লিচেস্টারশায়ার একাদশের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

ইউয়ার্ট অ্যাস্টিল তাঁর তুলনায় অধিক উইকেট পেলেও লিচেস্টারশায়ারের ইতিহাসে তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। ১৯২০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৩০-এর দশকের শুরুরদিক পর্যন্ত তাঁকে সাথে নিয়ে বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিতেন। ফুরফুরে মেজাজে খেলতেন। বিশালাকার দেহের কারণে বলে দ্রুত গতি আনতে পারতেন না। তাসত্ত্বেও মাঝে-মধ্যে বেশ জ্বলে উঠতেন। স্বল্প দূরত্ব থেকে দৌড়ে নিখুঁত নিশানা বরাবর ক্ষীপ্র গতিতে পেস বোলিং করতেন। নতুন বলে সুইং করতেন ও লেগ-কাটারে দক্ষতার পরিচয় দিতেন। তরুণ এডি ডসনের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, তাঁকে পিতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেলেও পরবর্তীতে এডি ডসন দলের অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

১৯২৪ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৪ সালে নিজ দেশে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ১৯২৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। জর্জ ডাকওয়ার্থ ও জ্যাক ম্যাকব্রায়ানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, প্রথম দিন পৌণে তিন ঘণ্টায় সফরকারীদের সংগ্রহ ১১৬/৪ হবার পর বাদ-বাকী সময় বৃষ্টির কবলে পড়ে। খেলায় তিনি ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৬ সালে নিজ দেশে ওয়ারেন বার্ডসলি’র নেতৃত্বধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুলাই, ১৯২৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১৪ আগস্ট, ১৯২৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ১ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৩ ও ১/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২৮৯ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯২৭-২৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ডিপিবি মরকেলকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/১৩০। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৭/৭০ ও ৫/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯২৮-২৯ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯২৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৬ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৩৫ ও ২/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩২ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জ্যাক হোয়াইটের স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ১২ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৮ মার্চ, ১৯২৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/১০৫ ও ১/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩১* রান সংগ্রহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৮ ও ২/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩২ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৩৪ সালে নিজ দেশে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে লেগ-কাটার প্রয়োগে ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাটের প্রান্ত স্পর্শে সফল হন। ২২ জুন, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। হ্যাডলি ভেরিটি’র স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে মাত্র সাত মৌসুম খেলেন। ১৯২৪ সালে আর্থিক সুবিধে গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, গ্রীষ্মের ভেজা আবহাওয়ায় সফল হয়নি। ১৯৩৬ সালে আরও একবার আর্থিক সুবিধে গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। ২৫ মে, ১৯৩৬ তারিখে হিঙ্কলের অ্যাশবি রোডে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় অংশ নেন। ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে খেলায় ৪৩ রান খরচায় ১৩ উইকেট দখল করে দলকে নাটকীয়ভাবে জয় এনে দিলেও অর্থ সংগ্রহে তেমন সফলতা পাননি। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে চার শতক সহযোগে ১৯/৮০ গড়ে ১৩৫০০ রান ও ২০.০৩ গড়ে ২০৬৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। শুরুতে চার্টারহাউজ ও পরবর্তীতে রাগবিতে বিদ্যালয়ের ছাত্রদেরকে প্রশিক্ষণ দেন। তন্মধ্যে, চার্টারহাউজে থাকাকালে বালকদের বিস্ময় পিটার মেকে যথাসম্ভব সহায়তার হাত প্রশস্ত করেন।

দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ৬ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে লিচেস্টারে ৮৭ বছর ২৪০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট