৯ জুলাই, ১৯৭৪ তারিখে বার্বাডোসের হোপওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়েই দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর দিকে নজর দেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্যে বেশ ক্ষাণিকটা সময় অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচটিমাত্র টেস্ট, ৬২টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, খেলোয়াড়ী দিনগুলোয় ওডিআইয়েই তাঁকে অধিক খেলতে দেখা যায়। ২০০৪ সালে নিজস্ব ৩০তম জন্মদিনের সপ্তাহখানেক পূর্বে ১ মে, ২০০৪ তারিখে গ্রোস আইলেটে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। মিশ্র সাফল্য পান। ২/৫৮ লাভ করেছিলেন। দৃশ্যতঃ বড় আসরের উপযোগী করে তুলেন ও দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিতকরণে অগ্রসর হন।
২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতার শিরোপা লাভ করেন। ক্যারিবীয় ক্রিকেটের উত্থান ও দলের সফলতায় তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। চূড়ান্ত খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। বল হাতে ২/৫৪ লাভের পর নবম উইকেট জুটিতে কোর্টনি ব্রাউনের সাথে ৭১ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ২১৭ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রসর হন ও দল ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়। ২০০৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ১০ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭৩ ও ৩/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শেন বন্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৬ সালে নিজ দেশে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ২০০৬ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২০ ও ১ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বীরেন্দ্র শেহবাগের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টে তেমন সুবিধে করতে না পারলেও ২০০৭ সালের পূর্ব-পর্যন্ত সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে দারুণভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। দূর্বল ক্রীড়াশৈলী ও ছন্দহীনতায় ভুগলেও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে জায়গা করে নেন। দলে অন্তর্ভুক্তির পূর্বে তিন খেলা থেকে ২৯ ওভারে দুইবার বিদেয় হয়ে ১৬৭ রান তুলেছিলেন। তবে, বিশ্বকাপে সুবিধে করতে পারেননি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ১০ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে সেন্ট জর্জেসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআই খেলেছিলেন।
