১০ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সেন্ট চার্লস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। শৈশবকাল থেকে পুলিশ কিংবা অগ্নিনির্বাপককর্মী হতে চেয়েছিলেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ডলফিন্স ও কোয়াজুলু-নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৩ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টস বনাম কোয়াজুলু-নাটালের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেক খেলায় প্রথম ইনিংসে ৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি।
২০১৭-১৮ মৌসুমের রাম স্ল্যাম টি২০ চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় কেপ কোবরাসের বিপক্ষে শতক হাঁকান। পাশাপাশি শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বার্থক বছর অতিবাহিত করেন। দুইটি শতরানসহ বিধ্বংসী ব্যাটিং করে হংকং সিক্সেস প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার শিরোপা বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। জুলাই, ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ডলফিন্সের পক্ষে খেলে ব্যাপক রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান। অনেকটা দেরী করেই ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। প্রায় এক যুগের অধিক সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলে ২০২২ সালের শুরুতে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর কাড়েন।
২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০২১-২২ মৌসুমে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩২ বছর বয়সে ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। গ্লেন্টন স্টুরম্যানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১০ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ম্যাট হেনরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭৬ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। এপ্রিল, ২০২২ সালে উইয়ান মুল্ডারের সাথে তিনিও কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীতে আক্রান্ত হন। এরফলে, খয়া জন্ডো ও গ্লেন্টন স্টুরম্যান তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হন।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৮ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ৪১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, খেলার চতুর্থ ইনিংসে ৯.১ ওভার থাকাকালীন তাঁর পরিবর্তে খয়া জন্ডো স্থলাভিষিক্ত হন। কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৩৩২ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২২-২৩ মৌসুমে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৪ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ৪২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। উসমান খাজা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
ক্রিকেটের বাইরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও দ্য শার্কসের সমর্থক। মৎস্য শিকার করতে, ঘোড়দৌড় দেখতে ও ঘুমোতে ভালোবাসেন।
