চার্লি হলোস

৪ এপ্রিল, ১৮৯৫ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের লিটল লেভার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সন্তান ছিলেন। দাদা ও বাবা – উভয়েই গ্রামের ক্লাবে খেলেছেন। দীর্ঘদেহী ও আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯১৪ থেকে ১৯২৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অল্প কিছুদিন পূর্বে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। ১৯২০-এর দশকে এসে পুরোদমে রানের ফুলঝুড়ি ছোটাতে থাকেন। ১৯২৭ ও ১৯২৮ সালের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী ল্যাঙ্কাশায়ার দলে প্রধান ভূমিকা রাখেন। খেলোয়াড়ী জীবনের স্বর্ণালী সময়ে ৭৫.৫৮ গড়ে ২৩৪৩ ও পরের বছর ৬৪.৫১ গড়ে ১৬৪৫ রান তুলেন। সংগৃহীত ৫৮টি প্রথম-শ্রেণীর শতরানের আঠারোটিই ঐ বছরে করেছিলেন।

১৯২১ থেকে ১৯২৮ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২১ সালে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ইতোমধ্যে প্রথম তিন টেস্টে সফরকারীরা জয়ী হয়ে সিরিজ করে ও ২৩ জুলাই, ১৯২১ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিজ শহরের মাঠে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। চার্লি পার্কারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, অধিনায়ক সম্মানীয় লিওনেল টেনিসন দলের সংগ্রহ ৩৬২/৪ থাকাকালে ইনিংস ঘোষণা করলে তাঁকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ইনিংস উদ্বোধনে নামেন ও বাদ-বাকী ওভারগুলো থেকে ১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। বৃষ্টির কারণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে দারুণ খেলার সুবাদে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৯২৮ সালে নিজ দেশে কার্ল নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে হার্বার্ট সাটক্লিফের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৫১ রানের জুটি গড়েন ও লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের বলে ২৬ রানে বিদেয় নেন। ভ্যালেন্স জাপ ও টিচ ফ্রিম্যানের বোলিংয়ের বদান্যতায় স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৫৮ রানের ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। ফলে, তাঁকে আর ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে যেতে হয়নি। এভাবেই দুই ইনিংসে ৪২ গড়ে রান তুলে তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। পরবর্তীকালের এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ৪০.২৪ গড়ে ২০৯২৬ রান সংগ্রহ করেছেন। তন্মধ্যে, ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ২০১৪২ রানের সন্ধান পান। খুব সহজে নিজেকে বৃদ্ধ মনে করতেন না। নিজ গৃহে আকস্মিকভাবে ১০ নভেম্বর, ১৯৭২ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের বোল্টন এলাকায় ৭৭ বছর ২২০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জুন, ১৯২১ সালে এডিথ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *