১২ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাশাপাশি উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বিস্ট’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাস্টার্সের পক্ষে খেলেছেন। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। গায়ানার বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওভারের পর ওভার বোলিং করতেন।
২০০০ সালে অ্যান্টিগুয়ায় গায়ানার নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নিকোলাস ডি গ্রুট দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি এ অবস্থানে নামেন। কার্টলি অ্যামব্রোসের ন্যায় বোলারকে রুখে মনোজ্ঞ অর্ধ-শতক হাঁকান। এরফলে, তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে গায়ানার অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন।
১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ২০০১ সালে খেলেছিলেন। ৮ এপ্রিল, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। দূর্দান্ত বোলিং করলেও মাঠেই অধিক ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনটি রান-আউট ও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
২০০১ সালে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গ্যারি কার্স্টেনকে বিদেয় করেন। প্রথম ইনিংসে ৪/৭২ লাভ করেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮২ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০১ সালে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ২৭ জুলাই, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/২৩ ও ৩/১৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে জিম্বাবুয়ে দল ২১৬ রানে এগিয়ে যায় ও পরবর্তীতে টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়। তবে, স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০১-০২ মৌসুমে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৩ নভেম্বর, ২০০১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ১০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই টেস্টে তাঁর সর্বশেষ অংশগ্রহণ ছিল।
২০০৮ সাল পর্যন্ত গায়ানার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও টি২০ খেলেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকায় এক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত হন। ২৮ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলের সদস্যরূপে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। তবে, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে তাঁকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় ও রায়ান কর্নসকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। অবশেষে, জানুয়ারি, ২০১১ সালে আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লীগের তৃতীয় বিভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ২০১৩ সালের বিশ্ব টি২০ বাছাইপর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন।