১৭ জানুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে কেন্টের ব্ল্যাকহিদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
রেপ্টন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯২৭ থেকে ১৯৫০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
১৯৩৩ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আর্থার মিচেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্মর্তব্য যে, ভারতের মাটিতে এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। প্রায় ৫০,০০০ দর্শক খেলাটিকে স্মরণীয় রাখতে উপস্থিত ছিলেন। অভিষেক পর্বটি দারুণ হয়েছিল তাঁর। বোম্বের জিমখানায় অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ১৩৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে বিজয়ী হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তবে, এ সিরিজ শেষে ৫৯.৬৭ গড়ে ১৭৯ রান তুলতে পেরেছিলেন। এরপর, পরের টেস্ট খেলার জন্যে তাঁকে চার বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।
১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টটি অসীম সময়ের ছিল। ৬৯৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় সফরকারীদের সংগ্রহ ৬৫৪/৫ হলে দেশে ফেরার তাগাদায় পারস্পরিক সমঝোতায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে লেস অ্যামিসের সাথে ক্রিজে অবস্থান করছিলেন। এ টেস্টে আক্রমণাত্মক ধাঁচ অবলম্বনে খেলায় অগ্রসর হয়েছিলেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ৪* রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এ সফরে তাঁর দল অপরাজিত অবস্থায় দেশে ফিরে আসে। বিস্ময়করভাবে তাঁর ব্যাটিং গড় ৬৪.৮৫। সংখ্যার দিক দিয়ে তা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অর্জিত গড়ের দ্বিগুণের অধিক। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ৩৫ শতক সহযোগে ৩০.১৫ গড়ে ১৮৩০৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
অন্যান্য ক্রীড়ায়ও সহজাত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। রেপ্টনে থাকাকালীন লন টেনিস খেলতেন; কেমব্রিজে ফরওয়ার্ড অবস্থানে খেলে ফুটবলে ব্লু লাভ করেন ও পরবর্তীকালে গল্ফে যুক্ত ছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৬৭ সালে কেন্টের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, অনেকগুলো বছর কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে কেন্টের অটফোর্ড এলাকায় ৭৫ বছর ১৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।